বাবা ব্রাজিল সমর্থন করেন, আমিও ব্রাজিল। বাবা ইলিশ মাছ ভালোবাসেন, আমিও। বাবা হলুদ জার্সি পরেন, আমিও পরি। আমার চেহারাও বাবার মতো। শুধু আমার বললে ভুল হবে, আমার ছোট ভাইটারও অনেক কিছু বাবার মতো। সে তো এখন মাঠে খেলতে যায় ব্রাজিলের জার্সি পরে।
অথচ আমাদের মা আর্জেন্টিনা সমর্থন করেন। মা কতবার আর্জেন্টিনার জার্সি এনে দিয়েছেন, কিন্তু আমার কখনোই ভালো লাগেনি। এখন দেখি, আমার ছোট ভাইয়েরও ভালো লাগে না। হয়তো বাবাকে দেখেই আমাদের ভালো লাগা তৈরি হয়েছে। বাবার পছন্দ যেন খুব অজান্তেই আমাদের পছন্দ হয়ে গেছে।
ছোটবেলায় আমাকে ন্যাড়া করাতে হলে আগে বাবা নিজে ন্যাড়া হতেন। তখন আমি আর ভয় পেতাম না। মনে হতো, বাবা যখন করেছে, আমিও পারব। বাবার চকলেট আইসক্রিম পছন্দ, আমারও। বাবার মতো হাঁটা, বাবার মতো হাসা, বাবার মতো কিছু কিছু কথা বলা, এসব কখন যে আমার ভেতরে চলে এসেছে, আমি নিজেও জানি না।
আসলে বাবা শুধু একজন মানুষ নন, বাবা আমার সবচেয়ে আপন আশ্রয়। বাবাকে দেখে আমি অনেক কিছু শিখেছি। বাবার পছন্দ, বাবার অভ্যাস, বাবার ভালোবাসা, সবকিছুই আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছে।
আমার কাছে বাবা মানেই সাহস, ভালোবাসা আর ভরসা। বাবা তো বাবাই। বাবার মতো মানুষ পৃথিবীতে আর কেউ হয় না।