আব্বার ছিল গাছ লাগানোর শখ। ব্যাপারটাকে শুধু শখ বলেই ছেড়ে দেওয়া যায় না, বলা যায় এটা ছিল বাড়াবাড়ি রকমের অসুখ। অন্তত আমরা তাই মনে করতাম।
আমাদের বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে ছিল আরেকটা বাড়ি। বাড়ি মানে দুইটা মাটির ঘর। একটা পুকুর। আর অনেক অনেক গাছ।
ঘরগুলোতে থাকত গরু আর ঘোড়া। দিনের বেলা সেই ঘোড়া বাঁধা থাকত কদম গাছতলায়। এদিকে পুকুরপাড় ঘিরে কাগজি লেবুর ঝোপ। ডাসা ডাসা লেবু পানিতে পড়ে ভাসছে। ওদিকে এক থোক কলাগাছ। তাতে এত কলা ধরেছে যে, গাছ নুইয়ে গেছে। তার পাশ দিয়েই আমগাছ। কত রকমের যে আম! ফজলি আম, হিমসাগর, আশ্বিনা আর কাঁচামিষ্টি। কাঁচামিষ্টি খেতে হয় কাঁচাতেই। এমন মিষ্টি আম কোথাও আর পাইনি!
এসবের সঙ্গেই আছে ডালিম গাছ। তার পাশেই কাঁঠালের ইয়া বড় গাছ।
এসব গেল ফলদ গাছ। কিন্তু আব্বা লাগিয়েছিল ঔষধি গাছও। মানে যেসব গাছ দিয়ে রোগ সারানো যায়। নিমগাছ থেকে নিশিন্দা গাছ সবই ছিল সে বাগানে।
আব্বাকে বলতাম, এত গাছ কেন লাগান আব্বা?
আব্বা বলত, গাছ তো আমাদের বন্ধু। কত কিছু দেয় গাছ। ফল দেয়, ফুল দেয়, ছায়া দেয়...
এখন বুঝি আমাদের জীবনের গাছ আমাদের বাবারা। কত কিছু দেয় তারা আমাদের। সবচেয়ে বেশি দেয় ছায়া। যে ছায়ায় আমরা সবাই ভালো থাকি। বাবা দিবসে সেই ছায়া দেওয়া বাবাদের জন্য প্রকাশ করি কৃতজ্ঞতা।