পর্তুগালের রোনালদো নির্ভরতা কমাতে হবে

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে পর্তুগাল ও উজবেকিস্তানের ম্যাচটিকে অনেকেই হয়তো কাগজ-কলমে একপেশে ভাবতে পারেন। কিন্তু মাঠের ফুটবল কখনো শুধু নাম দেখে চলে না। আমার কাছে এটি এমন একটি ম্যাচ, যেখানে পর্তুগাল ফেভারিট হলেও উজবেকিস্তানকে এক মুহূর্তের জন্যও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

উজবেকিস্তান এই বিশ্বকাপে যে ফুটবল খেলেছে, প্রথম ম্যাচে হারলেও তাদের সম্মান এনে দিয়েছে। বিশেষ করে দলগত সংগঠন, শৃঙ্খলা এবং ট্রানজিশনে তাদের গতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। আধুনিক ফুটবলে শুধু তারকা খেলোয়াড় থাকলেই হয় না; একটি দল কতটা একসঙ্গে খেলতে পারে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় উজবেকিস্তান নিজেদের প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে পর্তুগালও এখন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। তাদের স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা আছে, তারুণ্য আছে, আবার বড় ম্যাচ খেলার মানসিকতাও আছে। তবে আমি মনে করি, এই ম্যাচে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ধৈর্য ধরে খেলা। উজবেকিস্তান রক্ষণে অনেক খেলোয়াড় নিয়ে নেমে আসবে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে সুযোগ খুঁজবে। ফলে ম্যাচের অনেকটা সময় বলের দখল পর্তুগালের কাছেই থাকবে। কিন্তু বল দখল মানেই জয় নয়। সুযোগ তৈরি করতে হবে, আর সুযোগকে গোলে পরিণত করতে হবে। এই ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই তারকাকে নিয়ে প্রত্যাশার শেষ নেই। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, রোনালদোর একটা কঠিন সময় যাচ্ছে। ক্লাব ফুটবলে আল নাসরেও একটা সময় তিনি নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। যদিও মৌসুমের শেষ দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেখা গেছে।

আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে রোনালদোকে দেখেছি, তারা জানি তার আসল শক্তি শুধু গোল করা নয়। তিনি এমন একজন খেলোয়াড় ছিলেন, যিনি নিজের জন্য স্পেস তৈরি করতে পারতেন, ডিফেন্ডারকে হারিয়ে শট নিতে পারতেন, হঠাৎ করেই ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারতেন। তার দৌড়, তার ক্ষুধা, তার বিস্ফোরণ, এসবই ছিল ভিন্ন মাত্রার।

এখনকার রোনালদো অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা আলাদা। বয়সের কারণে তিনি আর আগের মতো পুরো মাঠ জুড়ে দাপিয়ে বেড়াতে পারেন না। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা, পজিশনিং এবং গোলের সামনে উপস্থিতি এখনো অসাধারণ। প্রশ্ন হলো, আমরা কি আবার সেই রোনালদোকে দেখতে পাব, যিনি ঘন ঘন স্পেস তৈরি করেন, দূরপাল্লার শটে গোলের হুমকি তৈরি করেন এবং প্রতিপক্ষকে আতঙ্কে রাখেন?

আমি বিশ্বাস করি, বড় মঞ্চে বড় খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণ করার পথ খুঁজে নেন। রোনালদোর মতো কিংবদন্তি নিশ্চয়ই জানেন, তার কাছ থেকে এখনো অনেক কিছু প্রত্যাশা করে ফুটবল বিশ্ব। এই ম্যাচটি হতে পারে সেই প্রত্যাবর্তনের আরেকটি সুযোগ।

তবে পর্তুগালের জন্য শুধু রোনালদোর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। দলের মিডফিল্ডকে আরও সৃজনশীল হতে হবে, উইং থেকে নিয়মিত আক্রমণ তৈরি করতে হবে এবং দ্রুত পাসিং ফুটবলের মাধ্যমে উজবেকিস্তানের রক্ষণ ভাঙতে হবে। কারণ উজবেকিস্তান এমন একটি দল, যারা সুযোগ পেলে শাস্তি দিতে জানে।

আমার ধারণা, ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। স্কোরলাইন হয়তো শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের পক্ষে যেতে পারে, কিন্তু সেটি সহজ হবে না। উজবেকিস্তান লড়াই করবে, দৌড়াবে, চাপ সৃষ্টি করবে এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। আর পর্তুগালকে জিততে হলে নিজেদের সর্বোচ্চ মানের ফুটবল খেলতে হবে।

সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি গ্রুপ ম্যাচ নয়; এটি দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াই। একদিকে বিশ্ব তারকায় ভরা পর্তুগাল, অন্যদিকে পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দলগত শক্তিতে বিশ্বাসী উজবেকিস্তান। তাই আমি নিশ্চিত, শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নিয়ে কিছুই বলা যাবে না।

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এ এক দারুণ উপভোগ্য লড়াই হতে যাচ্ছে। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে অপেক্ষা করছি, রোনালদোর কাছ থেকে সেই পুরনো ঝলকের আরেকটি দেখা পাওয়ার জন্য। কারণ মহান খেলোয়াড়দের গল্প কখনো শেষ হয়ে যায় না; তারা বারবার নতুন অধ্যায় লিখে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত