রাসুলের আনুগত্যেই আল্লাহর আনুগত্য

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ এএম

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন মুমিনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। আল্লাহ কী চান, কোন পথে চললে তার নৈকট্য লাভ করা যাবে এবং কোন কাজগুলো তার অসন্তুষ্টির কারণ হবে, তা জানিয়ে দিয়েছেন রাসুল (সা.)-এর মাধ্যমে। তাই আল্লাহর আনুগত্য ও রাসুলের আনুগত্যকে কখনো পৃথক করে দেখা হয় না। বরং রাসুল (সা.)-এর অনুসরণই আল্লাহর নির্দেশ মানার বাস্তব রূপ। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সুরা নিসা ৮০) এই আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ, আদর্শ ও জীবনাচরণ আল্লাহরই পক্ষ থেকে প্রদত্ত দিকনির্দেশনা। তাই তার আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্যেরই অংশ।

রাসুল (সা.) কোরআনের জীবন্ত ব্যাখ্যা ছিলেন। কোরআনে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কীভাবে নামাজ পড়তে হবে, তার বিস্তারিত শিক্ষা আমরা পেয়েছি রাসুল (সা.)-এর মাধ্যমে। জাকাত, রোজা, হজ ও অন্যান্য বিধানও তার সুন্নাহর মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন।’ (সুরা আলে ইমরান ৩১) এই আয়াতে আল্লাহর ভালোবাসা লাভের শর্ত হিসেবে রাসুল (সা.)-এর অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ মুখে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার দাবি করাই যথেষ্ট নয়, সেই ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে।

সাহাবায়ে কেরাম এই সত্য গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তারা জানতেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো রাসুল (সা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করা। তাই তারা জীবনের ক্ষুদ্রতম বিষয়েও নবীজির আদর্শ অনুসরণের চেষ্টা করতেন। তাদের এই আনুগত্যই তাদের মানবজাতির শ্রেষ্ঠ প্রজন্মে পরিণত করেছিল।

বর্তমান যুগে অনেকেই ইসলামকে নিজেদের চিন্তা, যুক্তি বা প্রবৃত্তির আলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। অথচ একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো কোরআন ও সুন্নাহকে জীবনের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা। কারণ মানুষের জ্ঞান সীমিত, কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান সর্বব্যাপী। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) সেই ওহির আলোকে মানবজাতিকে পথ দেখিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত