ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১২:২০ এএম

তীব্র ও রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহে পুড়ছে পুরো ইউরোপ। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে ও শরীর শীতল করতে ফ্রান্সে পানিতে নেমে গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকোর্নু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনও চরম গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্কুল এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মতে, ইউরোপ বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। ফলে এমন দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহের পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা দিন দিন আরও বাড়ছে।

ফ্রান্সের আবহাওয়া অফিস মেতেও ফ্রান্স জানিয়েছে, দেশের একটি বড় অংশজুড়ে তীব্র হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। গতকাল তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করেছে এবং পশ্চিম ফ্রান্সের কিছু অংশে এটি সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। ১৯৪৭ সালে তাপমাত্রা নথিভুক্ত করা শুরুর পর থেকে দেশটি এই প্রথম সবচেয়ে উত্তপ্ত বিকাল এবং রাত প্রত্যক্ষ করল। আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে দেশের ৫৪টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছেন। গরম থেকে বাঁচতে ফ্রান্সের মানুষ বিভিন্ন খাল ও নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কারপেনত্রাস এলাকার এক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, গত সোমবার বাড়ির সামনে পার্ক করা পারিবারিক গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন তাদের মা। পরে প্রথম উদ্ধারকারীরা চেষ্টা করেও, তাদের আর জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে পারেননি। গরমের কারণে প্যারিস ও ব্রাসেলসের মধ্যকার ট্রেনসহ বেশ কিছু ট্রেন যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গ্রিক অক্ষর ওমেগার আকৃতির মতো একটি বিশেষ আবহাওয়া বিন্যাস বা ওমেগা ব্লক-এর কারণে এই তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মাঝখানে গরম বাতাস আটকে থাকে এবং দুই পাশে ঠান্ডা বাতাস অবস্থান করে, যার ফলে দিনের পর দিন তাপমাত্রা বাড়তেই থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই তাপপ্রবাহ ও ঝড় আরও বেশি শক্তিশালী এবং তীব্র হচ্ছে, যা তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতেরও কারণ হচ্ছে। ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ১৫টি শহরের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কবার্তা জারি করেছে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা জুনের নতুন রেকর্ড হতে পারে। বুধ ও বৃহস্পতিবার এই তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা দেশের বিভিন্ন অংশে রেড অ্যালার্ট জারি করে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার তাপমাত্রা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত