হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধার করছে জাতিসংঘ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতিসংঘ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও)-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডমিনগেজ জানান, ইরান, ওমান, উপসাগরীয় উপকূলবর্তী অন্যান্য দেশ, যুক্তরাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক নৌপরিবহন শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হবে। 

তিনি বলেন, 'নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে এবং পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়েছে।' 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ ও হাজারো নাবিক আটকা পড়ে।

তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ।

ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত আইএমওর পরিকল্পনা অনুযায়ী নাবিক ও জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকায় জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রিত ও পর্যায়ক্রমিকভাবে স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।' 

এদিকে ডেনমার্ক মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল পুনরুদ্ধারে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মিশনে তারা যোগ দেবে।

হরমুজ প্রণালি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, শান্তিচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর ফলে অঞ্চলটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত