পারমাণবিক নৌবাহিনী গড়ছেন কিম জং উন

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ এএম

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ঘোষণা দিয়েছেন, দেশটি নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, মঙ্গলবার উপকূলীয় শহর নামপো তে অনুষ্ঠিত একটি যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের যুদ্ধজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। এটি উত্তর কোরিয়ার নির্মিত দুইটি পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতার ডেস্ট্রয়ারের একটি।

কিম বলেন, নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কর্মসূচি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। তাঁর ভাষায়, 'এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ, যা আমাদের পারমাণবিক শক্তিকে বহুমুখী ও কার্যকরভাবে পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত করবে।'

কিম দাবি করেন, 'আমাদের নৌবাহিনী শুধু উপকূলীয় জলসীমা রক্ষাকারী ব্যয়বহুল বাহিনী, এই যুগ শেষ হয়ে গেছে।' তাঁর মতে, উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী এখন যুদ্ধক্ষমতায় সজ্জিত একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে রূপান্তরিত হচ্ছে। 

এর আগে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন দিনের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক শেষে কিম দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধুনিকায়ন কার্যক্রম অঞ্চলকে 'পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে' ঠেলে দিচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে ‘অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবে দাবি করে আসছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালে কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর দেশটি এ অবস্থানে আরও দৃঢ় হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়া বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধের লড়াই বন্ধ হলেও এখনো কোনো শান্তিচুক্তি না হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিগতভাবে যুদ্ধাবস্থাতেই রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত