যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রণালিটি দিয়ে ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যা জুন মাসের শুরু থেকে সর্বোচ্চ দৈনিক সংখ্যা। এসব জাহাজের মাধ্যমে অন্তত ৮০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার মাধ্যমে গত ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। পরে ১৮ জুন ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত ওই চুক্তিতে ডিজিটাল স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্বাক্ষরের পরই এটি কার্যকর হয়।
চুক্তির আওতায় যুদ্ধের অবসান, লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সংঘাতের সমাধান, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপ্লার ও মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রণালিটি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি, সার, কনটেইনার ও অন্যান্য পণ্যবাহী মোট ২৫টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে ৯টি জাহাজ ছিল পণ্যবোঝাই।
চারটি সুপারট্যাংকারের মাধ্যমে অন্তত ৮০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সৌদি ট্যাংকারে থাকা প্রায় ৬২ লাখ ব্যারেল তেলের মধ্যে ৪০ লাখের বেশি ব্যারেল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া ‘জাহাম’ নামের সৌদি পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে থাকা ২১ লাখ ব্যারেল তেলের গন্তব্য এখনও জানা যায়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৮ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী সুপারট্যাংকার ‘তেনজান’ও জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
অন্যদিকে, ফরাসি পতাকাবাহী এলএনজি ট্যাংকার ‘মরাইখ’ কাতারের রাস লাফান টার্মিনাল থেকে ১ লাখ ৬৯ হাজার ঘনমিটার তরলীকৃত গ্যাস নিয়ে পাকিস্তানের পথে রয়েছে।
হংকংয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘তং লিন ওয়ান’ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫ লাখ ৯২ হাজার ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি বহন করে সিঙ্গাপুরের দিকে যাচ্ছে।
এছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা দুটি কার্গো জাহাজ ভারত ও চীনের জন্য সার বহন করছে বলে জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জুন হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১২টি, ১৫ জুন ১০টি, ১৬ জুন ১৪টি এবং ১৭ জুন মাত্র ৭টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছিল। বৃহস্পতিবার সেই সংখ্যা বেড়ে ২৫-এ পৌঁছায়।