মিল্টন খন্দকার

শিল্পী তৈরির কারিগর

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

বাংলা সংগীতজগতের এক কালজয়ী নাম মিল্টন খন্দকার। তিনি একাধারে গুণী গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। ১৯৮৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় চার হাজার গান উপহার দিয়ে আমাদের অডিও, রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। আজ ২৫ জুন, গুণী মানুষটির জন্মদিন। ১৯৬৭ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ায় এক সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

তাকে বলা হয় ‘শিল্পী তৈরির কারিগর’। নতুনদের নিয়ে নিরীক্ষা করতে পছন্দ করা এই সুরস্রষ্টার হাত ধরেই ডলি সায়ন্তনী, মনির খান, মনি কিশোর, বাদশা বুলবুল, পলাশ ও এস ডি রুবেলের মতো শিল্পীরা খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছেন। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গীতি কাব্য চর্চা কেন্দ্র’, যেখান থেকে প্রায় দুই হাজার নবীন গীতিকবি হাতে-কলমে গান লেখার কলাকৌশল শিখেছেন।

ছাত্রজীবনে কুষ্টিয়ায় মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তার সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। কণ্ঠসাধনার প্রয়োজনে পরে ওস্তাদ খন্দকার মিজানুর রহমান বাবলুর শরণাপন্ন হন এবং তার উৎসাহেই ঢাকায় এসে সংগীত মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৭ সালে হাসান চৌধুরীর ‘সেই তুমি’ অ্যালবাম দিয়ে অডিও বাজারে তার অভিষেক ঘটে। এরপর ১৯৮৮ ও ৮৯ সালে দিলরুবা খান এবং ডলি সায়ন্তনীর কণ্ঠে ‘হে যুবক’ গানটি অডিও শিল্পে বিপ্লব ঘটায়। ১৯৯৬ সালে মনির খানের ‘তোমার কোনো দোষ নেই’ অ্যালবামটি ছিল তার আরেকটি অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।

১৯৯০ সালে ‘ঘেরাও’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে গান লেখা শুরু করেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ সিনেমায় গান লিখেছেন। ২০১৩ সালে ‘খোদার পরে মা’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

তার কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে ‘রঙচটা জিন্সের প্যান্ট পরা’, ‘আমি পাথরে ফুল ফোটাবো’, ‘ও সাথীরে যেও না কখনো দূরে’, ‘আকাশেতে লক্ষ তারা’, ‘লাল বেনারসি’ এবং ‘মা তুমি আমার আগে যেও না গো মরে’ অন্যতম। জন্মদিনের শুভক্ষণে এই স্বপ্নবাজ শিল্পীকে জানাই শ্রদ্ধা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত