রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে একসঙ্গে কাটিয়েছেন লম্বা সময়। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই চেনা জুটি কার্লো আনচেলত্তি ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবার সেলেসাওদের ডেরায়। ক্লাব ফুটবলের দীর্ঘ পথচলায় গুরু-শিষ্যের মধ্যকার বোঝাপড়া আর আত্মিক বন্ধনটা যে কতটা অসাধারণ, তারই এক ঝলক দেখা গেল বিশ্বকাপের মঞ্চে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে গ্রুপ সেরা করার পর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক মজার কাণ্ড ফাঁস করলেন ভিনিসিয়ুস। মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এখন ডাগআউটের গুরু আনচেলত্তির সঙ্গে হেডে গোল করার এক বাজি জেতার উপহারের অপেক্ষায় এই রিয়াল তারকা।
মাঝারি উচ্চতার কারণে বাতাসে ভেসে আসা বলে হেড করে গোল করাটা ভিনির জন্য বেশ কঠিন। পায়ের জাদুকরী ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে নাচিয়ে ছাড়লেও হেড করার ক্ষেত্রে তাঁর কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারেসের মাপা ক্রসে বাতাসে ভেসে ক্ষিপ্র এক হেডে বল জালে জড়ান তিনি। নিজের দুর্বলতার জায়গায় করা এই গোলের পেছনে লুকিয়ে ছিল আনচেলত্তির চ্যালেঞ্জ।
ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস তাই হাসিমুখে বলেন, “আমি কার্লো আনচেলত্তিকে কথা দিয়েছিলাম যে এবার হেডে একটি গোল করে দেখাব। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন যে এটা প্রায় অসম্ভব। তবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এও বলেছিলেন, যদি আমি তা করতে পারি তবে তিনি আমাকে একটি বিশেষ উপহার দেবেন। আমি বাজি জিতে গেছি। এখন সেই উপহারের অপেক্ষায় আছি।”
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে ইতোমধ্যে ভিনি জাল কাঁপিয়েছেন ৪ বার। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করার গৌরব অর্জন করলেন তিনি। এর আগে ১৯৭০ সালে জাইরজিনিয়ো, ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালে রোনালদো ও রিভালদো এই কীর্তি গড়েছিলেন। এছাড়া গ্রুপ পর্বের টানা তিন ম্যাচেই প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন সেলেসাওদের এই তারকা ফরোয়ার্ড।