হাতের কনুইয়ের খুবই সাধারণ একটি সমস্যা হলো টেনিস এলবো। টেনিস খেলোয়াড়দের মাঝে এই সমস্যাটা বেশি হয়ে থাকে বলে একে টেনিস এলবো বলা হয়ে থাকে। এটি মূলত কবজি ও বাহুর পেশিতে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে কনুইয়ের বাইরের অংশে হওয়া এক ধরনের প্রদাহ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে লেটারাল এপিকন্ডালাইটিস বলা হয়। সমস্যাটি নারী ও পুরুষের উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে দেখা যায়। সাধারণত ৩৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
লক্ষণ
হাত উঠাতে বা বাঁকা করতে কষ্ট হয়। বেশিরভাগ সময় মোচড়ানোর কাজগুলো করতে অসুবিধা হয়। কনুই থেকে হাতের কবজি পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে যায়। আক্রান্ত স্থানে চাপ দিলে ব্যথা অনুভূত হয়। কোনো ধরনের ওজন তোলার সময় ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে। কোনো বস্তু দিয়ে লিখতে বা আঁকড়ে ধরার সময় ব্যথা। বাহু প্রসারিত করার সময় ব্যথা।
কারণ
পেশির অত্যধিক ব্যবহার। কবজি বাঁকানো কম্পিউটারের মাউস ব্যবহার করা। কনুইয়ের বারবার নড়াচড়া (টেনিস ও ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের) কবজির সন্ধিস্থলকে ভুলভাবে ব্যবহার করলে। অতিরিক্ত লেখালেখির কাজ করার কারণে। ক্রমাগত চাবি বা স্ক্রু ড্রাইভার ঘুরালে। পেশাগত কাজ যেমন পেইন্টিং করে বা কার্পেন্ট্রি। কম্পিউটারের কী-বোর্ড অতিরিক্ত ব্যবহার করে কাজ করলে।
চিকিৎসা
ওষুধের বিকল্প হিসেবে এভিডেন বেজ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে এই ব্যথা সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। ব্যথা কমাতে ইলেকট্রো থেরাপি যেমন আল্টাসাউন্ড এক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করে। এ ছাড়া হাতের ব্যবহার পরিবর্তনের মাধ্যমে ও ব্যথা নির্মূল করা যায়। সফট টিস্যু ম্যানুপুলেশনের মাধ্যমে পেশির টান কমানো হয়। মাংসপেশির যে অংশে চাপ পড়ে প্রদাহ হয়, সেখানে টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে আক্রান্ত স্থানে চাপ কম পড়ে, ফলে তাড়াতাড়ি অবস্থার উন্নতি হয়। বিভিন্ন ধরনের এক্সারসাইজ থেরাপি : স্ট্রেচিং, ইসেন্ট্রিক এক্সারসাইজ করানো হয়।
এ ছাড়াও রয়েছে ফ্লেস্কবার ও থেরাব্যান্ড এক্সারসাইজ, যা খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ব্রেস ব্যবহার করা যেতে পারে এলবো স্ট্র্যাম্প নামে এক ধরনের ব্রেস খুবই জনপ্রিয়। তবে অনেকে ব্রেস ব্যবহারে অসুবিধা মনে করলেও এর বিকল্প হিসেবে কাইনেশিও টেপিং ব্যবহার করা যেতে পারে। এই বিশেষ ধরনের টেপটি ব্যথা ও ফোলা কমাতে সাহায্য করে।