ফন হেকে: বিশ্বকাপে বল পাসিংয়ের নতুন রাজা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

পর্দার আড়ালে থেকে কানসাস সিটির সবুজ গালিচায় নেদারল্যান্ডস ফুটবলের এক নতুন ইতিহাস লিখে ফেলেছেন ২৬ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ইয়ান পল ফন হেকে। টটেনহ্যাম হটস্পারের এই নতুন রিক্রুট ম্যাচটিতে কেবল নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলই করেননি, বল পায়ে দেখিয়েছেন এমন এক পাসিং মাস্টারক্লাস—যা তাকে বসিয়ে দিয়েছে চলতি বিশ্বকাপের ‘পাসিং রাজার’ সিংহাসনে।

বিশ্বখ্যাত ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওপ্টার ডাটা অনুযায়ী, ডাচ ফুটবলের কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে পাসিংয়ের এক অনন্য রাজত্ব কায়েম করেছেন এই ডিফেন্ডার।

তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বৃহস্পতিবার ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচে ফন হেকে একাই ১৪৬ বার বল স্পর্শ করেছেন, যা চলতি বিশ্বকাপে যেকোনো ফুটবলারের জন্য এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, তার পা থেকে এসেছে ১৩০টি সফল পাস—যা এই টুর্নামেন্টের একক ম্যাচ রেকর্ড।

ডাচ ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ১৩০টি সফল পাস এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ বিশ্লেষণ করে ওপ্টা জানিয়েছে, মেগা মঞ্চে নেদারল্যান্ডসের কোনো ফুটবলার এক ম্যাচে এত বেশি সফল পাস দিতে পারেননি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল জুরিয়েন টিম্বারের (২০২২ বিশ্বকাপে কাতারের বিপক্ষে ১০৬টি পাস)। এমনকি এই ম্যাচেই দলের মূল অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক ১০১টি সফল পাস দিয়ে তালিকার তিন নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন।

চলতি বিশ্বকাপে ফন হেকে ও ইংলিশ ডিফেন্ডার মার্ক গেহির (১৪৩ টাচ ও ১২৬ পাস) পেছনে পড়ে গেছেন রদ্রি, পেদ্রি কিংবা ভিতিনহার মতো বিশ্বসেরা মিডফিল্ডাররা।

কেবল 'সেফ পাস' নয়, আক্রমণের মূল কারিগর

সাধারণত কোনো সেন্টার-ব্যাক বা ডিফেন্ডার যখন পাসিং রেকর্ডে নাম লেখান, তখন ধরে নেওয়া হয় তিনি পাশে থাকা ডিফেন্ডার বা গোলরক্ষককে ঝুঁকিমুক্ত ‘সেফ পাস’ দিয়ে সংখ্যা বাড়িয়েছেন। কিন্তু ফন হেকের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। তিনি ব্যাক-পাস না খেলে বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণ চূর্ণ করতে বাড়িয়ে দিয়েছেন নিখুঁত সব পাস।

ফন হেকে বল পাসিংয়ের রাজা

ফাইনাল থার্ডে পাস: প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কাছাকাছি বা আক্রমণভাগের শেষ সীমানায় তিনি একাই ৩৯টি পাস বাড়িয়েছেন, যা এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ। এই তালিকায় তার ধারেকাছে থাকা সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা দিয়েছেন মাত্র ২৫টি পাস।

লাইন-ব্রেকিং পাস: প্রতিপক্ষের মাঝমাঠ ও ডিফেন্স লাইন চিরে ফরোয়ার্ডদের উদ্দেশ্যে তিনি ২৪টি লাইন-ব্রেকিং পাস দিয়েছেন। এই ক্যাটাগরিতে তার ওপরে আছেন কেবল ফের্দি কাদিওগ্লু ও গ্রানিত জাকা (উভয়েই ২৫টি)।

যদিও অনেকে প্রতিপক্ষ হিসেবে তিউনিসিয়াকে কিছুটা সহজ মনে করতে পারেন, তবে রোনাল্ড কোম্যানের ডাচ শিবিরে ৬০ মিলিয়ন ইউরোর এই ডিফেন্ডার যে বল পাসিংয়ের আসল রাজা হয়ে উঠছেন, তা এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত