ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল এলাকায় শনিবার (২৭ জুন) পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার কাজ উদ্বোধন করেন ফরিদপুর সদর ৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়ক ইউসুফ।
তিনি বলেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ৩ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ীবাধ নির্মাণ করা হবে। আপৎকালীন জিও ব্যাগ ফেলে পদ্মার তীরবর্তী এলাকা ভাঙন প্রতিরোধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটি সাময়িক। তবে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই সিএমবি ঘাট থেকে তিন কিলোমিটার টেকসই এবং কার্যকরী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। যে বিষয়টি ইতিমধ্যেই আমি সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলেছি।
সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল এবং ডিগ্রির চর এলাকায় ব্লকের মাধ্যমে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে টেকসই নির্মাণ করা হলে এ অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ তার সুফল পাবে। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার, আর তাই আগামী পাঁচ বছর জনগণের উন্নয়নে সব ধরনের কাজ করা হবে। এ সময় সংসদ সদস্য স্পষ্ট করে স্থানীয় গ্রামবাসীর সামনে পদ্মা নদীর ভাঙন কবলিত মানুষের পাশে থাকার এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া ভাঙন কবলিত এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় স্বাস্থ্য ক্লিনিক মসজিদসহ হাট-বাজার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।
এর আগে পদ্মা নদীর ভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন ও নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে।
উদ্বোধন কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন, নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাকসহ নদী ভাঙন কবলিত এলাকাযর হাজারো মানুষ। এ সময় ভাঙন রোধে ১১০ মিটার এলাকায় সাড়ে ১২ হাজার জিওব্যাগ ডাম্পিং করার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাকিব হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফরিদপুর একটি প্রকল্প ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি মন্ত্রণালয় থেকে পাশ হয়ে এলে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল এবং ডিগ্রীর চর এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা টেকসই বাঁধ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে। আশা করছি এই টেকসই বাঁধ নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের প্রায় বিশ হাজার মানুষ এর সুফল পাবে। তবে আপাতত আপৎকালীন ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলে পদ্মার তীরবর্তী এলাকায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুস্তাকুজ্জামান মুস্তাক বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবত এ অঞ্চলের ইউসুফ মাতব্বরের ডাংগিয়ে শুকুর আলী মিদ্ধার ডাংগি উস্তাদ ডাংগিয়ে কবিরপুর চরসহ প্রায় ২০টি গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়ে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোট এবং জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি টেকসইবাদ নির্মাণের জন্য। তবে বিগত দিনে এর কোন সুফল পাওয়া যায়নি। আশা করছি বর্তমান সরকার দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করবেন।
তাছাড়া পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন প্রতিরোদে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নর্থ চ্যানেলের একটি অংশ চিরতরে পদ্মার গভীরে হারিয়ে যাবে। এর মধ্যেই ফরিদপুর সদর ৩ আসনের সংসদ সদস্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলে আগুন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যার সুফল এ অঞ্চলের মানুষ দ্রুত পাবে বলে মনে করছেন এই জনপ্রতিনিধি।
সীমান্তে রহস্যজনক ব্যাগ উদ্ধার, যা যা পেল বিজিবি