হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা। শনিবারের এই ঘটনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় উত্তেজনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, হামলায় ট্যাংকারটির ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। এ ঘটনার পর যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র (জেএমআইসি) সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার আরেকটি কার্গো জাহাজে হামলার পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, সেখানে ইরান আবারও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে এই রুট পুনরায় চালু হচ্ছিল।
ইরান এখনো সরাসরি জাহাজে হামলার বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অনুমোদনহীন পথে চলা জাহাজগুলোর দিকে 'সতর্কতামূলক গুলি' ছুড়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য জাহাজকে প্রণালি অতিক্রমের আগে ইরানের অনুমতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে 'প্রতিরক্ষামূলক হামলা' চালিয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে ইরানি ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত অস্থায়ী শান্তিচুক্তি এখন কার্যত ভেঙে পড়ার পথে। উভয় পক্ষই একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তারা ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, আর ইরান বলছে তারা মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই লেবানন ও ইসরায়েল ইস্যুও জটিল হয়ে উঠেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজনকে লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা এমন একজনকে লক্ষ্য করেছে যিনি তাদের জন্য হুমকি ছিলেন।
হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম নতুন ইসরায়েল-লেবানন চুক্তিকে 'শূন্য ও অকার্যকর' বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি শক্তিগুলোকে সমর্থন দিয়ে এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে চুক্তি লঙ্ঘন করছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শত শত জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে ছিল। গত দুই সপ্তাহে ধীরে ধীরে কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হতে শুরু করায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বেড়ে দাম কমে এসেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সংকট পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে হলে প্রণালিতে পূর্বের মতো নিরাপদ ও স্থায়ী নৌচলাচল নিশ্চিত করতে হবে, যা এখনো অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ওমান উপকূল বরাবর একটি নিরাপদ রুট চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান প্রণালির উত্তর অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে।
সূত্র: আল জাজিরা