লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত নতুন কাঠামোগত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নাইম কাসেম চুক্তিটিকে 'অপমানজনক, লজ্জাজনক এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর লেবানন থেকে প্রত্যাহারকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুক্রবার ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি উঠে এসেছে।
নাইম কাসেম বলেন, 'আমরা দখলদার ইসরায়েলকে পরাজিত করতে প্রতিরোধ আন্দোলন চালিয়ে যাব। কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা ময়দান ছাড়িনি, ভবিষ্যতেও ছাড়ব না।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই চুক্তিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে লেবাননের সরকার ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে বৈধতা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে এসব ভূখণ্ড ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ হলেও কিংবা তার পরও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন রাখতে পারে। স্মোটরিচ বলেন, 'হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখানে থাকব, এমনকি তার পরও নিরাপদ সীমান্ত নিশ্চিত করতে আমাদের উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে।'
চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতা নেই। বরং এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, যুদ্ধাবস্থার আনুষ্ঠানিক অবসান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা, স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং একটি বিস্তৃত শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির খসড়া তৈরির বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বৈরুতে হিজবুল্লাহ সমর্থকরা বিক্ষোভে নামেন। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিমানবন্দরের প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী এখনো লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থান করছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
চুক্তির পরও শনিবার সকালে দক্ষিণ লেবাননের মারকাবা ও নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকার কাছে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। সীমান্তবর্তী মারকাবা শহরের কাছেও রাতভর বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা