দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগ করবেন। একই সঙ্গে দেশে আগাম প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজধানী বেলগ্রেডে সরকারপন্থী এক সমাবেশে ভুচিচ বলেন, আমি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ প্রেসিডেন্ট থাকব, এরপর পদত্যাগ করব।
গত ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভুচিচের দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে তিনি জানিয়েছেন, আগাম নির্বাচনে নিজের দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস)-এর বিজয়ের জন্য কাজ করবেন। যদিও তিনি কবে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন বা কবে পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করেননি।
২০২৪ সালের নভেম্বরে উত্তরাঞ্চলের নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন দুর্নীতি ও সরকারি অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে। গত দেড় বছরে বিভিন্ন সময় আন্দোলন সহিংস রূপও নেয়।
কয়েক দিন আগে নোভি সাদে নিহতদের স্মরণে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা আগাম জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায়। রবিবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ক্রালিয়েভো শহরেও আরেকটি ছাত্র সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষার্থী-সমর্থিত বিরোধী জোট ‘মুভ-চেঞ্জ মুভমেন্ট’-এর নেতা সাভো মানইলোভিচ বলেন, 'পদত্যাগ এবং আগাম নির্বাচন ঘোষণার মাধ্যমে ভুচিচ আসলে তার অনিবার্য পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। কারণ ছাত্র আন্দোলন ও বিক্ষোভ এখন তার চেয়ে বেশি জনসমর্থন পাচ্ছে।'
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নোভি সাদের রেলস্টেশন দুর্ঘটনা ছিল সরকারি দুর্নীতি, নির্মাণকাজে অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির অভাবের প্রতিফলন। তারা ভুচিচ ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের অভিযোগও তুলেছেন।
তবে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ ও তার রাজনৈতিক মিত্ররা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, আগাম নির্বাচনে তারা ভুচিচ ও তার দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সূত্র: রয়টার্স