লুটপাট ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সরকার

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

অতীতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে লাগামহীন লুটপাট ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। এ লক্ষ্যেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গতকাল রবিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিটা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কমিশনের উপসচিব নাজমুল আলম, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ পাবলিক প্রসিকিউরমেন্ট অথরিটির সিইও (সচিব) মো. মইনুদ্দিন, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নুর চৌধুরী প্রমুখ।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট বা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংগ্রহ, নিরীক্ষা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুণগত পরিবর্তন আসবে।

সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার নির্ভুল হিসাব ও কার্যকর নিরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বর্তমান সরকার লাগামহীন লুটপাট ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। সিটা প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ আরও সুগম করবে।

সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, সব ধরনের সরকারি ক্রয় ও দরপত্র কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয়ের কাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর করা হবে। এতে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, পরিকল্পনা বিভাগ এমন একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও তথ্যভা-ার পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময় ও ব্যয়সীমার মধ্যে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতে পারলে তা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে জানানো হয়েছে, সিটা প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের মূল পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়নে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি জানায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রকল্পটি কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সক্ষমতা উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে সরকারি সেবার মান বাড়ানো হবে।

সংস্থার বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এমন শক্তিশালী ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলোর ওপর জনগণ ও বিনিয়োগকারীরা আস্থা রাখতে পারে। সিটা প্রকল্প সরকারি মূল ব্যবস্থাগুলোকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি তথ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করবে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তথ্যনির্ভর হবে এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি আরও কার্যকর করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত