ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতের দৈন্যদশা এবং ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচন ও ফান্ডের বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত পুরো বাজেটে আমরা দেখলাম আগামী ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো ধরনের বাজেট বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তাহলে কি আমরা ধরে নিব আবার আগে যেভাবে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেভাবে বিভিন্ন ধরনের বাজেট ঘাটতি ও নানা অজুহাত দিয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হবে?
ডাকসু নির্বাচন বন্ধের দিকে আমরা যাচ্ছি কিনা, মাননীয় উপাচার্য স্যারের কাছে জানতে চাই। আমরা আশা করব বাজেটে ডাকসু নির্বাচন ও ডাকসু পরিচালনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।
সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে ডাকসু নির্বাচনকেন্দ্রিক বাজেটের প্রস্তাব দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। ।
ডাকসু এই ভিপি আরও বলেন, সারা দুনিয়াব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল কাজ হচ্ছে গবেষণা করা, জ্ঞান অর্জন করা এবং নতুন নতুন জ্ঞান উৎপাদন করা। সেই জায়গা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫, ২৫-২৬, ২৬-২৭ সেশনের যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেখানে গবেষণায় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে- তা মূল বাজেটের মাত্র ২%। আমরা জানতে পারলাম, এ বছর তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য একটা কালেক্টিভ ফেইলিউর (সামষ্টিক ব্যর্থতা), একটা লজ্জার বিষয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান উৎপাদন করবে, সারা দুনিয়াব্যাপী নেতৃত্ব দেবে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় কোনো বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।
ডাকসু বাজেট প্রসঙ্গে আক্ষেপ করে সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার জন্য আমাদের যে বাজেট দেওয়া দরকার, সেটা এখন পর্যন্ত আমাদের দেওয়া হয়নি। আজকে প্রায় ১০ মাস পার করছি, মাত্র আমাদের ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি দেখি, ২০১৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা ভর্তির সময় যে টাকা তারা ডাকসুর জন্য দিয়ে থাকে, প্রতি শিক্ষার্থী ৬০ টাকা করে দেয়। সেই শিক্ষার্থীদের টাকাটা আমাদের জন্য এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের সাথে, শিক্ষার্থীর সাথে জুলুম করে তাহলে আমরা কার কাছে যাব?
তিনি বলেন, আমি অক্সফোর্ডে গিয়েছি, কেমব্রিজে গিয়েছি। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের ২৫ থেকে ৩০ পার্সেন্ট বাজেট গবেষণায় দিয়ে থাকে। সেখানে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে রিলেশনশিপটা বিল্ডআপ করার জন্য এবং শিক্ষার্থীরা যেন আগামী প্রজন্মের জন্য প্রস্তুত হতে পারে এর জন্য সেখানে টিচারস অ্যাসিস্ট্যান্ট, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম চালু আছে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত সেটা চালু করতে পারেনি। আমাদের প্রস্তাবনা থাকবে আমরা যেন এই বছর থেকে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম চালু করতে পারি।