ক্লাব ফুট বা বাঁকা পা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ এএম

আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে পা, যার মাধ্যমে আমরা স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারি। যতক্ষণ পর্যন্ত এটা কোনো রোগ বা আঘাতের সম্মুখীন না হয়, ততক্ষণ স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব। কিন্তু যখন কোনো রোগ বা আঘাতের দ্বারা পা আক্রান্ত হয়, তখন আর শারীরিক চলাফেরা সম্ভব নয়। ক্লাব ফুট এমন এক রোগ, যার দ্বারা স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব নয়।

ক্লাব ফুট কী : ক্লাব ফুট বা কনজেনিটাল টেলিপাস ইকুইনোভেরাসকে আমরা বাঁকা পা নামে চিনি। টেলি পাস অর্থ পায়ের গোড়ালি বা পাতা এবং ইকুইনোভেরাস অর্থ পা ভেতরের দিকে বাঁকানো। এটি সাধারণ একটি জন্মগত সমস্যা। এটি পায়ের পাতা ও গোড়ালির অস্বাভাবিক গঠন। সমস্যাটি একবারে দুই পায়ের হতে পারে। তবে যে শিশুরা এই সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তাদের অর্ধেকের দুই পায়ে এর সমস্যা নিয়ে জন্মায়। জন্ম-পরবর্তী আঘাত হতে এ সমস্যাটি হতে পারে। এ রোগটিতে পায়ের ভেতরে দিকের মাংসপেশির অনুন্নত থাকায় শিশু স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না।

কারণ :

১. স্পাইনা বাইফিডা

২. সেরিব্রাল পালসি

৩. আর্থ্রোগ্রোইপোসিস

চিকিৎসা : যত দ্রুত সম্ভব করা যাবে, উন্নতির সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগটি উন্নতি করা সম্ভব। ক্লাব ফুটের জন্য যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তার মধ্যে পনসিটি মেথড বেশি কার্যকর।

কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট : প্রথম ছয় মাস : সপ্তাহে একবার সিরিয়াল মেনিপুলেশন কাস্টিং। প্রথম ছয় মাস সপ্তাহে একবার করে এই চিকিৎসা চলবে। এই চিকিৎসায় পা ১৫ থেকে ৮০% পারছেন স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসে।

স্পিন্ট : ৬ থেকে ১৮ মাস সেলফ ব্রেছ দিয়ে দিনের বেলায় হাঁটাতে হবে। রাতের বেলা ডেনিস ব্রাউন স্পিন্ট দিতে হবে।

১৮ মাস থেকে ৪ বছর : সি জে ই ভি নামে এক ধরনের বিশেষ জুতা আছে ক্লাব ফুট বাচ্চাদের জন্য। বাচ্চাকে এই জুতা পরাতে হবে। স্কেলিটাল মেচিউরিটি না আসা পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শে থাকতে হবে।

পনসিটি পদ্ধতিতে উন্নতি না হলে সার্জারি করতে হবে। বাচ্চার বয়স ৪ বছরের নিচে হলে সফট টিস্যু রিলিজ সার্জারি। ৪ বছরের বেশি হলে সফট টিস্যু পসিডিউর ও বনি পসিডিউর সার্জারি করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত