অবিশ্বাস্য

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ এএম

এক বৈমানিকের গল্প

এই গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এয়ার মার্শাল স্যার ভিক্টর গডার্ড। ১৯৩৫ সালে তিনি উইং কমান্ডার থাকাকালে একদিন তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের কাছাকাছি ড্রেম এ একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পর্যবেক্ষণ করে আসার। তিনি বিমানঘাঁটিটিকে খুবই বেহাল দশায় দেখতে পান এবং সেখানে টারম্যাক ভেদ করে গজিয়ে ওঠা ঘাসে গৃহপালিত পশুদের অবাধ বিচরণ লক্ষ করেন। কাজ শেষে ফেরার পথে তিনি খারাপ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হন। যে কোনো সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি পুনরায় বিমানঘাঁটিটিতে ফিরে যেতে মনস্থ করেন এবং আবহাওয়া ভালো হলে ফিরবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বিমানঘাঁটিতে ফিরে তিনি অবাক হয়ে লক্ষ করেন প্রচ- বৃষ্টি কীভাবে যেন রৌদ্রোজ্জ্বল সূর্যালোকে পরিণত হয়েছে এবং জীর্ণদশার বদলে তিনি দেখেন বিমানঘাঁটিটি সচল! সেখানে রানওয়ে একদম ঠিকঠাক এবং নীল রঙা পোশাক পরে কাজ করছেন কর্মীরা। তিনি সেখানে হলুদ রঙা বিমান দেখতে পান যার একটিকে তিনি কোনোভাবেই চিনতে পারেননি। এহেন ঘটনা দেখে উনি বেশ বিভ্রান্ত হয়ে যান। কেননা কর্মীরা সে সময়ে খাকি রঙা পোশাক পরত এবং বিমানবাহিনী তাদের বিমানগুলোকে রুপালি রঙ করত তখন। তাছাড়া রাতারাতি বিমানঘাঁটিতে এত বড় রূপান্তর ঘটতে পারে না! এর চেয়েও বেশি চমকিত তিনি হন ৪ বছর পর ১৯৩৯ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় তাকে আবারও তাকে ড্রেম এ ফিরে যেতে হয়। এবার সেখানে গিয়ে তিনি যা দেখেন তা হলো ৪ বছর আগে দেখা ঘটনার হুবহু পুনরাবৃত্তি! তিনি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। এমনকি যে বিমানটিকে তিনি চিনতে পারেননি সেটিও সেখানে উপস্থিত ছিল (মাইলস ম্যাজিস্টার)। অনেকে বলেন দৈবক্রমে স্যার গডার্ড ১৯৩৫ সালের সেদিনে ৪ বছর ভবিষ্যতে কিছুক্ষণের জন্য চলে গিয়েছিলেন। জে. এইচ. ব্রেহন্যান তার ‘টাইম ট্রাভেল : আ নিউ পারস্পেকটিভ’ বইয়ে এই ঘটনাটির উল্লেখ করেন। স্যার গডার্ড ১৯৮৭ সালে মারা যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত