বিএনপির অন্তর্কোন্দল

শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে হামলা ভাঙচুর

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ এএম

পাবনার ঈশ্বরদীর সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছে, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে ও নষ্ট করেছে কয়েকশ শিক্ষার্থী ও অতিথির জন্য রান্না করা খাবারদাবার। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা অভিযোগ করেছেন, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মো. জহুরুল ইসলাম জানান, গতকাল তার শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবনের অবসরজনিত কারণে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অতিথি না করে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মোসা. শাহীনা আক্তার, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. কামরুজ্জামান শেখ, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবুর রহমান গ্রুপের উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার ও সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিক ১২-১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এতে অন্তত ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার বলেন, এটা রাজনৈতিকভাবে খুবই নিন্দনীয় এক কাজ। এই বিষয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিকসহ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মোছা. শাহীনা আক্তার বলেন, অনুষ্ঠানে অতিথিরা পৌঁছানোর আগেই সেখানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরসহ অনুষ্ঠানটি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই নিন্দনীয় কাজ হয়েছে। একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এভাবে হামলা করা ঠিক হয়নি।

এই বিষয়ে জানতে হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের নেতা উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার ও সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি আলম প্রামাণিকের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত