উন্নতির পথে এই ব্রাজিল

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ এএম

কী এক ভয় আর দমবন্ধ করা মুহূর্তই না গেল! সত্যি বলতে, ম্যাচটা যে সহজ হবে না, তা আমি জানতাম; কারণ জাপান দলটা বেশ গোছানো। কিন্ত একদম শেষ মুহূর্তে গোল দিয়ে এভাবে ম্যাচ জেতা সবার হার্টের জন্য বড় একটা পরীক্ষা ছিল!

প্রথমার্ধে আমরা খুব একটা ভালো খেলতে পারিনি। বল পজিশন আমাদের বেশি থাকলেও প্রতিপক্ষকে আমরা সেভাবে চেপে ধরতে পারছিলাম না। একে বলে ছন্নছাড়া আধিপত্য, যা থেকে গোল আসে না। অন্যদিকে জাপান দারুণ রক্ষণ সামলে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে উঠছিল। শেষ পর্যন্ত দানিলোর বল পাসের এক মারাত্মক ভুলে আমরা গোল খেয়ে বসলাম, যা জাপানের ভালো মিডফিল্ডার কাইশু সানো দারুণ বুদ্ধিমত্তায় কাজে লাগাল। এই গোলটি তাদের ধারাবাহিকতা আর ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলারই পুরস্কার ছিল। তারা ব্রাজিলের টেকনিক্যাল শ্রেষ্ঠত্বকে সমীহ করেছে এবং সেই অনুযায়ী খেলেছে।

বিরতির সময় ‘মিস্টার’ আনচেলত্তি প্রমাণ করলেন দলটা আসলেই তার নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি ক্যাসেমিরোকে মাঠে রেখেছিলেন, যিনি সমতাসূচক প্রথম গোলটি করেন। আনচেলত্তি দলটাকে গুছিয়ে নিলেন এবং ছেলেদের তাতিয়ে দিলেন। পাকেতার চোটের কারণে মাঝমাঠ হারানোর একটা ভয় ছিল। কিন্তু তরুণ এনড্রিক প্রত্যাশামতোই আক্রমণে গতি বাড়িয়ে দিল। আর তারপরই আমরা ওদের ওপর চড়াও হলাম। আমাদের খেলার ধার অনেক বেড়ে গেল এবং আমরা পুরোপুরি বুঝেশুনে জাপানিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলাম। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলো, বল পোস্টে লাগল, ডিফেন্ডার গোললাইন থেকে বল বাঁচাল আর ওদের কিপারও অবিশ্বাস্য সব সেভ করল। গোল পাওয়াটা তখন কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল। আমরা ওদের কম উচ্চতার সুযোগ নিয়ে চমৎকারভাবে এরিয়াল বল বা আকাশপথের আক্রমণগুলোকে কাজে লাগিয়েছি।

নিশ্চিতভাবেই, এই ম্যাচের আসল কৃতিত্ব কোনো একক খেলোয়াড়ের নয়, বরং পুরো দলের। অ্যালিসনকে বলতে গেলে তেমন কোনো কাজই করতে হয়নি; যে একটি শট গোলপোস্টে এসেছিল, সেটিই গোল হয়ে গেছে। জাপান দলটা প্রায় পুরোটা সময় নিজেদের বক্সে রক্ষণ সামলেছে এবং সুযোগ বুঝে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে উঠেছে। কিš‘ ব্রাজিল আর কোনো ছাড় দেয়নি। আমাদের যে গোলটা দরকার ছিল, তা তুলে নিতে আনচেলত্তি একদম নিখুঁত সব বদলি খেলোয়াড় নামিয়েছিলেন। মার্তিনেল্লি ছিলেন একদম সঠিক সময়ে সঠিক জায়গার মানুষ। পায়ে পায়ে বলের দারুণ এক পাসিং কম্বিনেশন থেকে সে বল জালে জড়াল। বলটা পোস্টে লেগে ভেতরে ঢোকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে গিয়েছিল! সত্যি বলতে, ম্যাচটা ড্র হওয়া আমাদের সঙ্গে অন্যায় হতো।

সব মিলিয়ে, জাপানের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের কথা মাথায় রেখে এই ম্যাচের জন্য আমি দলকে ১০-এর মধ্যে ৮ দেব। আমি আগেও বলেছি, আমাদের দলটা প্রতিনিয়ত উন্নতির গ্রাফে আছে এবং বিশ্বকাপে এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমি আশা করি পাকেতা যেন দ্রুত সু¯’ হয়ে ওঠে, যাতে আমরা পরের ম্যাচেও এই উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখতে পারি। দলের বোঝাপড়া বাড়ানো এবং এই শুরুর একাদশকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি, যা ধীরে ধীরে দলের একটা চেনা ছন্দ তৈরি করছে।

আসল সত্যি হলো, নকআউট পর্ব থেকে বিশ্বকাপে আর কোনো সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই! জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি আরও একবার দেখাল যে, এই ধরনের বাঁচা-মরার ম্যাচে লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য মাঠে শতভাগ উজাড় করে দেওয়া এবং জেদ থাকা কতটা জরুরি। এখন থেকে প্রতিটা ম্যাচে বুটের ডগায় বুকভরা সাহস নিয়ে নামতে হবে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে এবং প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে!

পরবর্তী প্রতিপক্ষ নরওয়ে হোক বা কোত দিভোয়ার (আইভরি কোস্ট) যারাই আসুক, লড়াইটা কঠিন হবে। এই দুটি দলই মাঠে একটু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। তবে আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বাধা পেরিয়ে আমাদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার এবং ‘হেক্সা’ (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ)-র দিকে এগিয়ে যাওয়ার সব সামর্থ্য রয়েছে। তবে হ্যাঁ, পরের ম্যাচটা এত নাটকীয় বা কষ্টের না হলেও চলবে!

ও গ্লোবো থেকে নেওয়া)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত