সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন অনলাইন জুয়া বন্ধে আইন পাস

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ এএম

কোটি টাকা জরিমানার বিধান বাতিল করে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬’ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। সর্বশেষ মূল আইনের ২০ ধারায় দুই বছরের দ-েব এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান ছিল। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আলাদা আইন হওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে ২০ ধারাটি বাদ দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি উপস্থাপনের পর সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়। এদিন জুয়া, অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদ-ের বিধান রেখে জুয়া প্রতিরোধ বিল সংসদে পাস হয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন ও ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারায় কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’-এর ২০ ধারায় বলা ছিল ‘কোনো ব্যক্তি যদি সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে কোনো পোর্টাল, অ্যাপস বা ডিভাইস তৈরি ও পরিচালনা করেন, জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন কিংবা এতে সহায়তা ও উৎসাহ দেন, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’ এমনকি এ আইনে জুয়ার বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ বা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচারণা চালালেও তা অপরাধের আওতায় পড়ত। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে অনধিক দুই বছর কারাদ-, অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ের বিধান রাখা হয়েছিল। এ ধারাটি বিলুপ্ত করে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬’ বিলটি পাস করা হয়।

এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করেন স্পিকার। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। দ্যা পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭ রহিত করে নতুন আইন করা হচ্ছে। বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছর কারাদ- বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন। অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করলে পাঁচ বছর কারাদ- বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন। কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদ- বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থ দ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন। ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদ- বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-। পাস হওয়া বিলে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদ-/কারাদ-/উভয় দ-) বিধান রাখা হয়েছে। বিলে জুয়া, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া এসবেরও সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং সংসদে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের জনসংখ্যার ১১ শতাংশ এখনো আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নিরাপদ পানি সরবরাহে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে ২০২৬ সালের মধ্যে আর্সেনিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষের হার ১১ শতাংশ থেকে ৫-৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জলাবদ্ধতাপ্রবণ ১০৮টি হটস্পট চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। এর পাশাপাশি ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব দল নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা পরিষ্কার করছে।

১ টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে : এক টাকা দিয়ে আইন ও বিচার বিভাগ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এমনটি করা হলে বিচার বিভাগের প্রয়োজনই থাকবে না, দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। গতকাল অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগের বাজেটের ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় এ মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অধিবেশনে আইনমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের জন্য দুই হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মঞ্জুরি দাবি পেশ করেন। এরপর বিরোধীদলীয় কয়েকজন সদস্য এ দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ এক টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং বিচার বিভাগের নানা সংকট তুলে ধরেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, নিম্ন আদালত পৃথক করা হলেও বিচারকদের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় বিচার বিভাগ পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, বিচার বিভাগের বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিটিভির বরাদ্দের চেয়েও কম। তিনি দেশে ৫০ লাখের বেশি মামলা জটের কথা উল্লেখ করে প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোতে নিজেদের মধ্যেই সাংঘর্ষিক অবস্থান দেখা গেছে। কেউ বলছেন বরাদ্দ বেশি, তাই এক টাকায় নামিয়ে আনা হোক। আবার কেউ বলছেন বরাদ্দ কম, তাই সেটিও এক টাকা করা হোক। এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়। এক টাকা দিয়ে যদি আইন বিভাগ চালাতে বলা হয়, তাহলে তো বিচার বিভাগের প্রয়োজনই থাকবে না। দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাবে।

আমরা প্রতিনিয়ত সাইবার বুলিংয়ের শিকার-রুমিন ফারহানা : সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, সাইবার স্পেসটা আইন করে নিরাপদ রাখার যে প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল সংসদের, সেটি হচ্ছে এই স্পেসটাকে নারীর জন্য একটা নিরাপদ স্পেস হিসেবে তৈরি করা দরকার। কিন্তু আমরা যারা রাজনীতি করি কিংবা যারা পাবলিক ফিগার কিংবা যারা নোন ফেস আমাদের প্রতিনিয়ত সাইবার হ্যারেসমেন্ট সাইবার বুলিং এবং নানান রকম সাইবার অপরাধের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে পরিচিত নারীরা হয়তো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিংবা মিডিয়া জগতের সঙ্গে যুক্ত আমাদের জন্য এ স্পেসটা প্রতিদিনই আরেকটু আরেকটু করে অনিরাপদ হয়ে যায়। আশা করি এ সংসদের মাধ্যমে নারীদের জন্য আমরা যেন একটা নিরাপদ সাইবার স্পেস রাখতে পারি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত