চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ এএম

চট্টগ্রাম মহানগরকে ক্লিন-গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার রেখে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ৮৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও পেশ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বাজেট ঘোষণা করেন।

এ সময় মেয়র বলেন, নগরবাসীর একমাত্র সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি নগরবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা। সামর্থ্যরে মধ্যে সেই প্রত্যাশা পূরণে চসিক নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সদিচ্ছা থাকলেও আর্থিক সক্ষমতা অপ্রতুল। আর্থিক সক্ষমতা ছাড়া নগরবাসীর শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ কষ্টসাধ্য। শুধুমাত্র পৌরকরের ওপর নির্ভর করে সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়। সিটি করপোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিকের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে ৪৪টি আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে ব্যাপক জনকল্যাণমুখী, কর্মবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করপোরেশন স্বনির্ভর হবে।

তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিকভাবে যেসব গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছিল সেগুলো যৌক্তিক করতে নিয়মিত রিভিউ বোর্ড বসানো হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। বন্দর, রেলওয়ে, ৩৬টি কন্টেইনার টার্মিনাল ও অয়েল কোম্পানি লিমিটেডসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সংস্থাগুলোকে অবশ্যই প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে।

২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিজস্ব উৎস থেকে সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৫২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। যার মধ্যে রয়েছে বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ৫১ কোটি ৯০ লাখ, ভ্রমণ ও যাতায়াত ১ কোটি ১০ লাখ, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা ৭ কোটি ১৫ লাখ, ব্যয় ২২ কোটি ৫৫ লাখ ও ভা-ার ১১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা রয়েছে।

মেয়র জানান, ২০২৪ সালের ০৩ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করার সময় ৫৯৬ কোটি টাকা দেনা ছিল। বর্তমানে দেনার পরিমাণ কমে ৩৮০ কোটি টাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘ দিনের হকার্স সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ফুটপাত দখল করে হকার ব্যবসা পরিচালনার ফলে নগরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। হকার সমস্যা সমাধানে নগরের গুরুত্বপূর্ণ চারটি পয়েন্টে আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলার বিষয়ে চায়নার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড এলাকায় এই ধরনের মার্কেট নির্মাণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের পাশে খালি জায়গায় হকারদের জন্য ভূমি বরাদ্দের চেষ্টা চলছে।

মেয়র বলেন, বিএফআইডিসি রোডে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মালিকানাধীন ৮ একর জায়গা এওয়াজ বদলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীতে সেনাবাহিনী কর্তৃক আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, উক্ত হাসপাতাল তৈরি হলে তা চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান অনুমোদিত মোট জনবলের সংখ্যা ৪২২৬ জন। ওই জনবল দ্বারা সত্তর লাখ নগরবাসীকে বিভিন্ন সেবা প্রদান করা সম্ভবপর নয়। তাই জরুরি কার্য সম্পাদনের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। বাজেট অধিবেশনে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির চৌধুরীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত