৪০ বছরের দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ১৬ (রাউন্ড অব সিক্সটিন) নিশ্চিত করেছে সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো। শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও আজতেকাতে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের খরা কাটিয়েছে তারা। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া মেক্সিকান ফরোয়ার্ড জুলিয়ান কিনোনিয়োস।
ঘরের মাঠে মেক্সিকোর সর্বশেষ নকআউট পর্বের জয়টি এসেছিল ঠিক ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এই আজতেকা স্টেডিয়ামেই বুলগেরিয়ার বিপক্ষে (২-০ গোলে)। এরপর থেকে প্রতিবারই সোনালী প্রজন্ম নিয়ে এসেও গ্রুপ পর্ব কিংবা প্রথম নকআউট রাউন্ডের গেরো কাটাতে পারছিল না মেক্সিকানরা। ইকুয়েডরকে হারিয়ে সেই ভূত তাড়ানোর পর আজতেকার গ্যালারিতে এখন একটাই স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছে— "যদি এবার সত্যিই কিছু ঘটে?"। মেক্সিকান সমর্থকরা এখন পঞ্চম ম্যাচের (কোয়ার্টার ফাইনাল) বৃত্ত ভেঙে আরও বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে ২৯ বছর বয়সী জুলিয়ান কিনোনিয়োসের পা থেকে। বক্সের ভেতর বল পেয়ে এক বুলেট গতির জোরালো শটে বল ইকুয়েডরের জালের উপরিভাগে জড়ান তিনি। এটি চলতি বিশ্বকাপে তাঁর তৃতীয় গোল। এর আগে গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষেও জালের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। কিনোনিয়োসের এই গোলের পর মেক্সিকো আরও একটি গোল করে ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শেষে ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিনোনিয়োস বলেন, "জনগণকে আরও বেশি আনন্দ দেওয়ার জন্য আমাদের আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমি এই ফলাফলে অত্যন্ত আনন্দিত। আমার ব্যক্তিগত সাফল্য দলগত প্রচেষ্টারই ফল, আর এই জার্সি গায়ে জড়াতে পারাটা সবসময়ই গর্বের।"
কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া কুইনোনসের মেক্সিকোর হয়ে এই বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো বেশ নাটকীয়। মেক্সিকান লিগে অ্যাটলাস এবং ক্লাব আমেরিকার হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া এই ফরোয়ার্ডকে দলে নিতে চেয়েছিল কলম্বিয়াও। কিন্তু ২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের পাঠানো চিঠিটি না পড়েই তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং মেক্সিকোর নাগরিকত্ব গ্রহণ করে এই দেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। আজ রাতে আজতেকার দর্শকরা তাঁর সেই ঘাম ও গোলের মাধ্যমে মেক্সিকান হয়ে ওঠার চূড়ান্ত প্রতিদান পেল।
রেফরির শেষ বাঁশি বাজার পর আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বস্তির চেয়ে মেক্সিকোর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখার গুঞ্জনই বেশি ভারী হয়ে উঠেছে। এই ছন্দ ধরে রেখে সহ-স্বাগতিকরা কতদূর যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।