ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) স্কুল অফ বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স’র (এসওবিই) উদ্যোগে “নেক্সাস সেমিনার সিরিজ” শীর্ষক প্রোগ্রাম ইউআইইউ ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এই দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগটি ব্যবসা, অর্থনীতি, সমাজ এবং একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি কার্যকর ও টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের চাপ ও ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক ব্যয়ের মতো অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এই প্রেক্ষাপটে সদ্য চালু হওয়া সিরিজটি অ্যাকাডেমিক সক্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এসওবিই'র আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য নেক্সাস সেমিনারগুলোতে শিল্পক্ষেত্রের পেশাদারদের নেতৃত্বে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইউআইইউ’র শিক্ষার্থীরা শীর্ষস্থানীয় ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পাবে, যা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের সাথে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার এক সমন্বয় সৃষ্টি করবে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র কৃষি অর্থনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. ইফতিখার মোস্তফা "কাঠামোগত সংস্কারের জন্য উদ্ভাবন, ভ্যালু চেইন এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা" শীর্ষক মূল বক্তব্য প্রদান করেন। তিন দশকের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি কাঠামোগত সংস্কার চালনার জন্য তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন: উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা, বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খল (জিভিসি) শক্তিশালী করা এবং অর্থবহ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করা। এ প্রসঙ্গে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সম্প্রসারণযোগ্য সমাধানের উদাহরণ তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে বোঝা যায় কীভাবে সমন্বিত প্রণোদনা টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে সম্ভব করে তুলতে পারে।
আলোচক হিসেবে ইউআইইউ’র অর্থনীতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. এম. ওমর ফারুক, তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন- বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত-পরবর্তী অর্থনীতিতে বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে (জিভিসি) উত্তরণের জন্য মূল্য সৃষ্টি, মূল্য আহরণ এবং মূল্য বণ্টন সম্পর্কে একটি ব্যাপকতর ও আরও পরিশীলিত বোঝাপড়া অত্যন্ত জরুরি। অর্থবহ পদ্ধতিগত সংস্কার অর্জনের অপরিহার্য পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি সিস্টেম থিংকিং এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, পদ্ধতিগত সংস্কার কখনোই শূন্যে ঘটে না এর জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষায় আন্তঃশাস্ত্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও সক্ষমতা বিকাশের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন এবং উল্লেখ করেন- বর্তমানে সমাজ যে জটিল সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে, তার অধিকাংশই কোনো একক অ্যাকাডেমিক শাখার সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
নেক্সাস সিরিজের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন- বাংলাদেশের প্রচলিত প্রবৃদ্ধির কর্মপন্থা তার কাঠামোগত সীমায় পৌঁছে গেছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (৪আইআর) যুগে কঠিন অর্থনৈতিক আপস-মীমাংসা কমাতে পরিমাপযোগ্য ও উদ্ভাবনী সমাধান অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন- কাঠামোগত সংস্কারের জন্য সরকার, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়াকে এক সমন্বিত ভাষায় কথা বলতে হবে এবং অর্থবহ পরিবর্তন আনতে এই তিনটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ইউআইইউ ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্স রিসার্চের (আইএআর) নির্বাহী পরিচালক এবং সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এমেরিটাস ড. এম রিজওয়ান খান এবং বিবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক প্রফেসর ড. সালমা করিম, গবেষণা-ভিত্তিক নীতি সংলাপকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে তাদের বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।
কার্যকরী নীতি সংস্কারের উপর একটি আলাপচারিতামূলক প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শেষ হয়, যেখানে বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, গবেষক এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের উচ্চপর্যায়ের ইন্ডাস্ট্রি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।