মাদারীপুর

অসহায় বৃদ্ধের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম

মাদারীপুর শহরের পানিছত্র এলাকায় রাস্তার পাশে অজ্ঞাতপরিচয় অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন বৃদ্ধ হেমায়েত মোল্লা। যাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন (এবিজি ফাউন্ডেশন)। একই সঙ্গে সংবাদটি দেখে তার খোঁজ পান স্বজনরা এবং তাকে বাড়ীতে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

জানা যায়, প্রায় ৭০ বছর বয়সী হেমায়েত মোল্লাকে কয়েক দিন ধরে মাদারীপুর পৌরসভার পানিছত্র এলাকায় অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বয়সের ভার, অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছিলেন না। পথচারীরা খাবার ও পানি দিলেও তার পরিচয় জানা যায়নি।

পরে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় যুবক ও সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আজ বুধবার (১ জুলাই) আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন (এবিজি ফাউন্ডেশন) বৃদ্ধের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

সংবাদটি দেখে বৃদ্ধের স্বজনরাও সন্ধান পান এবং মাদারীপুর সদর হাসপাতালে এসে পরিচয় নিশ্চিত করেন যে, বৃদ্ধ হেমায়েত মোল্লা খুলনা জেলার সোয়াডাঙ্গা উপজেলার বানরগাতি আল-আমিন কান্দির বাসিন্দা।

পরবর্তীতে হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা শ্যামল পান্ডে এবং জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা বি. এম. আসাদুজ্জামানের উপস্থিতিতে বৃদ্ধ হেমায়েতকে তার ছেলে তারেক হোসেন মোল্লা, ফারুক মোল্লা এবং নাতি মনিরুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয় বাড়ীতে পরিবারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা শ্যামল পান্ডে বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশের পরই বৃদ্ধের স্বজনরা তার সন্ধান পান এবং হাসপাতালে এসে তাকে নিয়ে যান। একই সঙ্গে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন (এবিজি ফাউন্ডেশন) বৃদ্ধের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

মাদারীপুর জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা বি. এম. আসাদুজ্জামান বলেন, সংবাদটি প্রকাশের পর আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন (এবিজি ফাউন্ডেশন) যেভাবে অসহায় এই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়েছে—তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

বৃদ্ধের ছেলে তারেক হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমার বাবার পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ায় আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন (এবিজি ফাউন্ডেশন)-এর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি সংবাদটি প্রকাশ করে বাবাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করায় বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত