বন্য কিছু প্রাণী প্রকৃতিতে টিকে থাকা ও খাদ্য সংস্থানের জন্য, উন্নত ও বৈচিত্র্যময় শিকার কৌশল ব্যবহারে হিংস্র ও বিস্ময়কর। এসব প্রাণীর শারীরিক গঠন, শক্তি এবং বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কৌশলের সঙ্গে শিকার করে। এরা কখনো একা শিকার করে না। বরং দল বেঁধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে, বড় প্রাণীদের কোণঠাসা করে। হিংস্র বললে, প্রথমেই নাম আসে সিংহীর। এরা সাধারণত দল বেঁধে শিকার করে। শিকারকে চারদিক থেকে ঘিরে, পালানোর পথ বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে, চিতা পৃথিবীর দ্রুততম স্থলচর প্রাণী। তারা শিকারকে লক্ষ্য করে প্রচণ্ড গতিতে তাড়া করে ধরে। নেকড়েরা চিতার মতো দ্রুত না হলেও, এদের সহনশীলতা বেশি। এরা দীর্ঘ সময় ধরে শিকারকে দৌড়িয়ে ক্লান্ত করে। বনের ঝোপঝাড় বা গাছের ডালপালায় তারা নিজেকে লুকিয়ে রাখে। শিকার অসতর্ক হলেই এক লাফে ঘাড়ে পড়ে। লোনা জলের কুমির, পানির নিচে শুধু চোখ ও নাক ভাসিয়ে স্থির থাকে। তৃষ্ণার্ত প্রাণী পানি খেতে এলে বিদ্যুৎগতিতে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। আবার আফ্রিকান বুনো কুকুর ও হায়েনারা অত্যন্ত সহযোগিতামূলক আচরণ দেখায়। এদের শিকারের সাফল্যের হার সর্বোচ্চ ৯০% পর্যন্ত। এরা দলগতভাবে শিকারকে ক্লান্ত করে। বরফের সাদা রঙের মেরু ভাল্লুকের শরীরের সাদা পশম মিশে যায়। ফলে সিল মাছ সহজে এদের দেখে না। ব্ল্যাক মামবা ও কিং কোবরা বিষাক্ত নিউরোটক্সিক বিষ, কামড়ের মাধ্যমে শিকারের শরীরে ঢুকিয়ে দেয়। এ ছাড়া কিছু হিংস্র প্রাণী রয়েছে, যারা খুব ভয়ংকর।