ভেনেজুয়েলায় নিহত বেড়ে প্রায় ২ হাজার

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ১০ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন এবং ১৬ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬ লাখ ৮০ হাজার শিশুর জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

ভূমিকম্পের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযানের গতি কমেছে। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালালেও, এখন মৃতদেহ উদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। গত মঙ্গলবার লা গুয়াইরার মাকুতো এলাকায় ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল তাদের অভিযান স্থগিত করেছে। সেখানে একটি ভবনের নিচে আটকা পড়া এক মা ও তার তিন সন্তানকে উদ্ধারের জন্য ৪০ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় আশা ছেড়ে দিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। ইকুয়েডরের উদ্ধারকারী দলের নেতা মেজর হোর্হে মোন্তানেরো বলেন, ‘অনেক দিন পার হয়ে গেছে। আমরা মনে করছি এখন কেবল মৃতদেহই পাওয়া যাবে।’

তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু আশার আলো দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার ভূমিকম্পের ৬ দিন পর কারাকাসে একটি জর্ডানিয়ান উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উদ্ধার হওয়া হাতেগোনা কয়েক জন জীবিত ব্যক্তির মধ্যে এই শিশুটি অন্যতম। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছেলেশিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান। শিশুটিকে উদ্ধারের সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার করে আনার পর উল্লাস করছেন।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দেশটিতে ৯০০ জনেরও বেশি সামরিক কর্মী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের পুয়ের্তো রিকো এবং কুরাসাওয়ের মতো কৌশলগত কেন্দ্রগুলোতে আরও প্রায় ৮০০ সেনাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লাতিন আমেরিকায় নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভানের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। সাউদার্ন কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ডনোভান জানান, গত সপ্তাহের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের পর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের চৌকস বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। তারা স্থানীয় বিমানবন্দর এবং বিমান ও নৌসম্পদ সচল করতে ভেনেজুয়েলাকে সহায়তা করছে।

ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করতে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় অন্তত চার থেকে পাঁচটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ামিতে একটি বিশেষ কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব ড্রোন থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ভেনেজুয়েলার কর্র্তৃপক্ষকে সহায়তা করা হচ্ছে। ডনোভান বলেনÑ আগে আমরা যেসব সামরিক সম্পদ এই গোলার্ধের হুমকিগুলো অনুসরণ করতে ব্যবহার করতাম, এখন তা রাস্তাঘাট সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো চিহ্নিত করার কাজে ব্যবহার করছি’। মাটির সমান্তরাল থেকে অনেক সময় এসব ক্ষয়ক্ষতি ভেনেজুয়েলা কর্র্তৃপক্ষের পক্ষে দেখা সম্ভব হয় না’।

তবে সময়মতো ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল না পাঠানোর কারণে ভেনেজুয়েলা সরকারের সমালোচনা হচ্ছে। প্রথম কয়েক দিন বাসিন্দারা হাতের কাছে পাওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়েই স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করেছেন। ডনোভান বলেন, কয়েক দশকের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ওষুধ ও হাসপাতাল কর্মীর সংকট এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই মিশন কত দিন চলবে সে বিষয়ে ডনোভান নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যেÑ সামরিক বাহিনীর সেখানে দীর্ঘমেয়াদে থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে এই উদ্যোগের ফলে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতাকে এক বিস্ময়কর মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত