ডেঙ্গু আক্রান্ত বেশি বরিশালে মৃত্যু বেশি ময়মনসিংহে

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ এএম

চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে বরিশাল বিভাগে। ঢাকার দুই সিটি ও আট বিভাগের মধ্যে আক্রান্তের দিক থেকে ময়মনসিংহের অবস্থান অষ্টম। কিন্তু মৃত্যু এই বিভাগের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। এবার এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনই মারা গেছে ময়মনসিংহে। সবশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিও ময়মনসিংহে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

চলতি বছরে ডেঙ্গু নিয়ে ৬ হাজার ২৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৭৫ জন, চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৬৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮৮, ঢাকা বিভাগে ৭৭২, খুলনায় ৭২৫, ঢাকা উত্তর সিটির হাসপাতালে ৫৪০, রাজশাহী ২২২, ময়মনসিংহে ১৮৬, সিলেটে ৬০ এবং রংপুরে ৩২ জন ভর্তি হয়েছে।

ময়মনসিংহে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ, ঢাকা দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে চার, চট্টগ্রাম ও ঢাকা উত্তর সিটির হাসপাতালে তিনজন করে, বরিশাল, ঢাকা বিভাগ, খুলনা ও রাজশাহীতে একজন করে মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে ময়মনসিংহের চেয়ে বরিশালে রোগী বেশি ৯ গুণ। অথচ বরিশালে চেয়ে ময়মনসিংহে মৃত্যু অনেক বেশি। বরিশালে যেখানে ১ হাজার ৬৭৫ জন ভর্তি রোগী মধ্যে একজন মারা গেছে, সেখানে ময়নমসিংহে প্রতি ৩৭ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালে এই দিন পর্যন্ত ময়মনসিংহে ভর্তি হয়েছিল ১৪৪ জন, মৃত্যু হয়েছিল একজনের।

এই বছর ময়মনসিংহে মৃত্যু এত বেশি কেন, তা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইন উদ্দিন বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ ও আশপাশের জেলার রোগীও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। রোগীর চাপ বেশি। তবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আছে। সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ১৩৩ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। জুনের ২৩ তারিখের পর এই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথম মৃত্যু হয় ২৪ জুন। ওই দিন দুজন মারা যায়। ২৫ জুন আরও একজনের মৃত্যু হয়। ২৯ জুন একজন এবং গতকাল ১ জুলাই আরও একজনের মৃত্যু হয়। গতকাল মৃত্যু হওয়া চমকফুল (৬৫) জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার গাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইন উদ্দিন জানান, তিনি গত ২৭ জুন ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৮ জুন তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আটজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন এবং রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চারজন ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১৬১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের ভর্তি হওয়া রোগীদের ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। জানুয়ারিতে ভর্তি হয়, ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ এবং জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন ভর্তি হয়েছে। জানুয়ারিতে মৃত্যু হয়েছে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ এবং জুলাইয়ের প্রথম দিনে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৫ সালেও বেশি ভর্তি হয় বরিশাল বিভাগে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত