ভোর চারটার নিস্তব্ধতা ভেঙে একযোগে চিৎকার করে উঠল পুরো বন্দরনগরী। কেপ ভার্দে বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার নকআউট পর্বের ম্যাচটি তখন রূপ নিয়েছে চরম নাটকীয়তায়। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন ফুটবলপ্রেমীরা।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে প্রিয় দলের কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এক পা এগিয়ে যাওয়ার দিনে ভোররাত থেকেই চট্টগ্রামের অলিতে-গলিতে ছিল অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ।
ভোর ৪টায় খেলা শুরু হলেও বন্দরনগরীর ফুটবল অনুরাগীদের রাত জেগে থাকার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই। শহরের কেন্দ্রবিন্দু থেকে শুরু করে প্রান্তিক গ্রাম; সবখানেই বড় স্ক্রিন আর প্রজেক্টরে খেলা দেখার ধুম পড়ে যায়। নগরীর কাজির দেউরি মোড়, দুই নম্বর গেট, বালি আর্কিডসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশালাকার ডিজিটাল স্ক্রিনে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়। খেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই এসব স্পটে আর্জেন্টিনা সমর্থক এসে ভিড় জমান। মধ্যরাতেই নীল-সাদা জার্সি, ব্যানার আর পতাকায় ছেয়ে যায় এসব এলাকা।
নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে বড় স্ক্রিনে খেলা উপভোগ করতে আসেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে আমজনতার টানটান উত্তেজনা, আর গোলের উল্লাসে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে একাত্ম হন তিনিও।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে আর্জেন্টাইনদের তারকা লিওনেল মেসি গোল করে দলকে এগিয়ে নিতেই প্রথম দফায় কাঁপন ধরে উৎসবের নগরী চট্টগ্রামে। মাঝপথে কেপ ভার্দে গোল শোধ করে সমতায় ফিরলে দর্শকদের মাঝে কিছুটা পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। তবে নির্ধারিত সময় শেষে খেলা যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়, তখন উত্তেজনা রূপ নেয় চরমে। ৯২ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের গোল এবং পরবর্তীতে কেপ ভার্দের আবার সমতায় ফেরা। টানটান উত্তেজনার অবশেষে ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হতেই ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় আনন্দ মিছিল।
ফুটবলের এই চিরচেনা উন্মাদনা শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা ছড়িয়ে পড়ে গ্রামীণ জনপদেও। হাটহাজারীর পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল স্ক্রিনে খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ শান্ত পরিবেশ উপেক্ষা করে উপজেলার দূর-দূরান্তের এলাকা থেকে শত শত ফুটবলপ্রেমী মধ্যরাতেই মাঠে এসে হাজির হন।
এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসজুড়েও ছিল আকাশচুম্বী আমেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বড় ডিজিটাল স্ক্রিনে খেলা দেখার ব্যবস্থা করে শাখা ছাত্রদল।