ডালাসের ফুটবল ম্যাটিনিতে যখন টাইব্রেকারের শেষ বলটি অস্ট্রেলিয়ার জাল ছুঁয়ে গেল, তখন পুরো স্টেডিয়াম উৎসবে মাতোয়ারা। মাঠের মাঝখানে হাঁটু গেড়ে বসে অঝোরে কাঁদছেন মোহামেদ সালাহ, আর ডাগআউটে চিবুক বেয়ে জল গড়াচ্ছে কোচ হোসাম হাসানের।
তবে সেই অশ্রু শুধু দীর্ঘ ৯২ বছরের এক নকআউট জুজু থেকে মুক্তির ছিল না; ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই আনন্দের ক্ষণটিকে এই লড়াকু কোচ রূপ দিলেন নিপীড়িত মানুষের প্রতি সংহতির এক অনন্য মঞ্চে। টিম হোটেলে ডালাস পুলিশের সাথে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত তিক্ততা আর মাঠের ১২০ মিনিটের ম্যারাথন ক্লান্তি, সবকিছুকে এক নিমেষে ছাপিয়ে হোসাম হাসান তার পুরো হৃদয়, আত্মা এবং এই ঐতিহাসিক বিজয় উৎসর্গ করলেন ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের উদ্দেশ্যে।
সংবাদ সম্মেলনে আরব বিশ্বের এই মাস্টারমাইন্ড আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার হৃদয় ও আত্মা সর্বদা ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে আছে। আমি ধন্যবাদ জানাই এবং আমাদের এই ঐতিহাসিক জয়টি তাদের উৎসর্গ করছি। আমরা আরব বিশ্বকে আজ গর্বিত করতে পেরেছি। আমি মাঠের ওই ভালো মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলাম। আল্লাহ আজ আমাদের সম্মানিত করেছেন, কারণ মাঠে ও গ্যালারিতে অনেক ভালো মানুষ আমাদের জন্য দোয়া করছিলেন।”
কোচ হিসেবে হাসানকে নিয়ে মিসরের ফুটবল মহলে সমালোচনার শেষ ছিল না। সাবেক সতীর্থ আহমেদ হাসান কিংবা এসাম এল-হাদারির মতো কিংবদন্তিরাও প্রায়ই তার রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। অনেকেই মনে করতেন, তিনি নিখুঁত ছক কষার চেয়ে স্রেফ গলার জোরে ফুটবলারদের তাতিয়ে রাখতেই বেশি পারদর্শী। তবে খ্যাপাটে এই হাসানের যে দমে যাওয়ার পাত্র নন, তা মাঠের বাইরেও প্রমাণিত। ম্যাচের আগের দিন টিম হোটেলে এক শিশুর সাথে খেলোয়াড়দের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পুলিশ অপ্রয়োজনীয় আগ্রাসন দেখালে তেড়ে যান কোচের যমজ ভাই ও টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসান। পুলিশ অফিসার তার বুকে ধাক্কা মেরে হাতকড়া বের করার উপক্রম করলে দুই বিশালদেহী মানুষ একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যান; পরে উইঙ্গার ত্রেজগে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
১৯৩৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোতে পা রাখল ফারাওরা। টিম হোটেলের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা কিংবা মাঠের কঠিন প্রতিরোধ, সব বাধা মাড়িয়ে সালাহদের এই স্বপ্নযাত্রা এখন আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের দিকে। যেখানে আগামী মঙ্গলবার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিপক্ষে খেলবে তারা।