নাটোরের লালপুর

৮ শিক্ষার্থীর ফর্ম ফিলাপের টাকা আত্মসাৎ: অফিস সহকারী গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত, কলেজটির অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে লালপুর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুলপুর সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোছা. ইসরাত জাহান সূচির পরিবারের পক্ষ থেকে লালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১২ মার্চ ইসরাত জাহান সূচি এইচএসসি পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে কলেজের অফিস কক্ষের সামনে যান। সেখানে কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের সঙ্গে তার দেখা হয়। অমিত কুমার সরকার সূচির কাছে অফিসে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি ফর্ম ফিলাপের বিষয়টি জানান। তখন অমিত তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, টাকা, ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে জমা দিলে তিনিই ফর্ম ফিলাপের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে দেবেন।

সরল বিশ্বাসে সূচি ফর্ম ফিলাপের টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অমিতের কাছে জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ফর্ম ফিলাপের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে অমিত তাকে বারবার আশ্বস্ত করেন যে, সময়মতো সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

ঘটনার মোড় ঘোরে গত ২৯ জুন ২০২৬, যখন কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হয়। সূচি কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকার তার মায়ের মোবাইল নম্বরে ফোন করে জানান, অধ্যক্ষ প্রবেশপত্র আনতে রাজশাহীতে গেছেন। তাই পরদিন কলেজে আসতে বলা হয়।

পরদিন ৩০ জুন সকালে সূচি ও তার বাবা কলেজে গেলে অমিত তাদের জানান, প্রবেশপত্রে কিছু সমস্যা থাকায় তা সংশোধনের জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে এবং সংশোধনের পর তা দেওয়া হবে। পরে ১ জুলাই সকালে অমিত আবারও সূচির মায়ের মোবাইল নম্বরে ফোন করে জানান, প্রবেশপত্রের সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি নিজেই রাজশাহী যাচ্ছেন।

অফিস সহকারীর এমন দফায় দফায় অসংলগ্ন বক্তব্যে সূচির বাবার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তিনি সেদিনই (১ জুলাই) সকালে মেয়েকে নিয়ে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন। অধ্যক্ষ কম্পিউটারের ডাটাবেজ যাচাই করে জানান, ইসরাত জাহান সূচির ফর্ম ফিলাপই করা হয়নি।

এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকার সূচির কাছ থেকে ফর্ম ফিলাপের টাকা গ্রহণ করলেও তা বোর্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি প্রবেশপত্র দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে এমন প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকারকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে লালপুর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত