জাবিতে গভীর রাতে নবীনদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, আটক ১২

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের গভীর রাতে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে র‍্যাগিং দেওয়ার  অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের একদল সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাও প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে লিখিতভাবে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা হলেন- সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় ও নাইম আহমেদ সজিব।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত ১১টার দিকে ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে ফোন করে প্রথমে মহুয়া মঞ্চের সামনে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে যেতে বলা হয়। সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট বসিয়ে রাখার পর তাদের মাঠের পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ‘ফরমাল পরিচয়’ ও ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে তাদের বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালাগাল, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক বলেন, সেখানে আমাদের বাবা-মাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পরে জাকসুর নেতা মোহাম্মদ আলী চিশতী, হুসনে মোবারক ও প্রক্টরিয়াল টিম এসে আমাদের উদ্ধার করেন।

একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী রাজ খান বলেন, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে রাত সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সেন্ট্রাল ফিল্ডে নিয়ে আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

এবিষয়ে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক বলেন,  অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসনকে জানানো হলে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা ঘটনার কথা স্বীকার করেন।

প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে ইতিহাস বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে তারা র‍্যাগিং দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা অফিসে এনে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত