জনসংখ্যার ৫১% নারী, তবু রাজনীতিতে অর্থবহ অংশগ্রহণ সীমিত

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম, গণতন্ত্রীকরণ ও শাসন: অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও নারীর অংশগ্রহণের পথসমূহ শীর্ষক কর্মশালা শনিবার (৪ জুলাই) তারিখে ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। 

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস)-এর সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করে। দিনব্যাপী এই কর্মশালায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংগঠন এবং স্বাধীন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নারী রাজনৈতিক কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল অংশগ্রহণকারীদের রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম, গণতন্ত্রীকরণ, শাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে গভীরতর ধারণা প্রদান করা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনা উৎসাহিত করা।

উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন সিজিএস-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান। কর্মশালার থিম উপস্থাপন করেন সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী। অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এফইএস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার সাধন কুমার দাস। সেশনগুলো পরিচালনা করেন শাম্মী লায়লা ইসলাম, কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ, দ্য কার্টার সেন্টার।

কর্মশালার শুরুতে পারভেজ করিম আব্বাসী ক্লায়েন্টেলিজমকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি, লবিং, দুর্নীতি এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে সীমিত করে। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংগঠন নারীর অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

জিল্লুর রহমান নারীর জনসংখ্যাগত শক্তি ও তাদের সীমিত রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ এবং ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও তাদের অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বরং বিভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক কর্মীদের সম্মিলিতভাবে রাজনৈতিক অধিকার ও নেতৃত্বে অগ্রসর করার আহ্বান জানান।

সাধন কুমার দাস এফইএস-এর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন যে, প্রতিষ্ঠানটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রীকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও নারীর অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করছে।

কর্মশালার নেতৃত্ব দেন শাম্মী লায়লা ইসলাম। তিনি অংশগ্রহণকারীদের দলীয় শাসন, গণতন্ত্রীকরণ, রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি নিয়ে ইন্টারেক্টিভ আলোচনায় যুক্ত করেন। 

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, নারীর প্রতিনিধিত্ব সময়ের সাথে বৃদ্ধি পেলেও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা এখনও তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ সীমিত করছে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, বিকেন্দ্রীকরণ ও দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের বাস্তব উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখান, কীভাবে কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব, পৃষ্ঠপোষক নেটওয়ার্ক ও অভিজাত নিয়ন্ত্রণ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রার্থী নির্বাচন ও নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্বের সুযোগকে প্রভাবিত করে।

কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে সম্মিলিত প্রতিফলনের মাধ্যমে—যেখানে অভ্যন্তরীণ দলীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জবাবদিহিমূলক শাসনকে উৎসাহিত করা এবং নারীর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত