এবার ১৩ কার্যদিবসের মাথায় আগামীকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আলোচিত শিশু জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনি (৭) হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৪ -এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। মামলার একমাত্র আসামি বাবু শেখের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। নিহত জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনি হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছে আদালত। আসামি বাবু শেখের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন থেকে যুক্তিতর্ক পর্যন্ত কার্যক্রম ১০ কার্যদিবসে শেষ হয়েছে। ইরা মনি খুনের মামলাটি ১৬ জুন আমাদের ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়ে আসে। ১৭ জুন পুলিশের দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। এরপর ১৮ জুন আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক।
পুলিশ জানায়, বাবার সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জেরে সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন প্রতিবেশী বাবু শেখ। গত ১ মার্চ চকলেটের লোভ দেখিয়ে ইরা মনিকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে নিয়ে যান বাবু শেখ। প্রথমে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় চিৎকার করলে ইরার গলায় ছুরি চালান। মৃত ভেবে তাকে পাহাড়ের খাদে ফেলে চলে যান বাবু শেখ। মৃত ভাবলেও তখনো কিন্তু শিশুটির মৃত্যু হয়নি। গলা কাটা অবস্থায় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উপরে থাকা চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কে উঠে আসে ইরা মনি।
এ সময় ওই সড়কের সংস্কার কাজে থাকা শ্রমিকরা শিশু ইরা মনিকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তবে বাঁচানো যায়নি ইরাকে। ২ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইরার মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করেন। ৩ মার্চ বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৪ মার্চ পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেন বাবু শেখ। আদালত সূত্র জানায়, গত ১১ জুন জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনি হত্যা মামলায় বাবু শেখের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ /৯ (৪) (খ) এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ‘ইরা মনির বাবা মনিরুলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার সাত বছরের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবু শেখ। এর অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুসলিয়ে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে নিয়ে প্রথমে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান তিনি। ১ মার্চ সকালে ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেওয়ার ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে, ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসেন বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে যান। সেখান থেকে হেঁটে তারা বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার পাহাড়ে যান।’