তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ৩৬তম শীর্ষ সম্মেলন। আজ মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই সম্মলনের পর্দা নামবে আগামীকাল বুধবার। এই সম্মেলনে ৩২টি মিত্র দেশের শীর্ষ নেতাসহ ন্যাটোর সহযোগী দেশগুলোর নেতারা অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ন্যাটোর কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে সেটিই হবে এবারের সম্মেলনে মূল আলোচ্য বিষয়। এই সম্মেলনকে ঘিরে আঙ্কারায় ন্যাটোবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টির (টিকেপি) এক বিক্ষোভ মিছিল থেকে শতাধিক মানুষকে আটক করেছে দেশটির কর্র্তৃপক্ষ।
সম্মেলন কেন্দ্র করে তুর্কি কর্র্তৃপক্ষ রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শহরের বিশাল এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টিকেপি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আঙ্কারার কেন্দ্রস্থল কিজিলে স্কয়ারে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছিল। সেখান থেকে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বৈরী সম্পর্কের জেরে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) গঠিত হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এমনইউরোপকে সুরক্ষিত রাখার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সরাসরি জড়িত। তবে ২০২৬ সালে এসে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই জোট নিয়ে খুব একটা আগ্রহী নন। ন্যাটো জোটের ইউরোপীয় দেশগুলোকে সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি থেকে বের হয়ে আসতে চান তিনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই কথা বলেছেন। ট্রাম্পের এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে আটলান্টিক মহাসাগরের উভয় পাড়ের সদস্য দেশগুলো একটি বিষয়ে একমত ইউরোপকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ন্যাটোকে ধুয়ে দিতে একটুও কার্পণ্য করেননি ট্রাম্প। যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন এই বিশ্বনেতা। বিশেষত, ইরান যুদ্ধে ইউরোপকে পাশে না পেয়ে যারপরনাই চটেছেন এই সাবেক আবাসন ব্যবসায়ী। এমন কী, তিনি জোটের ৫ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সনদ সব সময় মানবেন না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই অনুচ্ছেদমতে, জোটের কোনো সদস্য বহিঃশত্রু হামলার শিকার হলে জোটের বাকি সদস্যরা ওই দেশের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। শুরুতে হুমকি বা ইঙ্গিত মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখন বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে চাইছে।
এদিকে, এবারের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন গতি আসতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তুরস্ককে প্রায় ৪০টি এফ-১১০ যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন সরবরাহের অনুমতি দিতে পারে ওয়াশিংটন। ২০১৭ সালে রাশিয়ার এস-ফোর হানড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জেরে ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-থার্টি ফাইভ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। এক বছর পর তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়। সেই বিরোধ এখনো কাটেনি।