নেত্রকোনার পূর্বধলায় কালিহর নদী থেকে ইটের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নবজাতকের মরদেহের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ১২ বছরের এক শিশুকে দিনের পর দিন ধর্ষণের ঘটনা। সেই ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া মৃত নবজাতককেই গুম করতে ইটের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয় নদীতে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত সাজন মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সাজন পূর্বধলা থানার মাইজপাড়া (কোনা কালিহর) গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। পেশায় সে একজন কৃষক এবং বিবাহিত।
এর আগে গত ২৯ জুন সকালে পূর্বধলা উপজেলার হোড়লা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা গ্রামের কালিহর নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি নবজাতক কন্যা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি একটি কালো শার্টে মোড়ানো এবং প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ইটের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ছিলো। এ ঘটনায় পূর্বধলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক খান বাদী হয়ে পেনাল কোডের ৩১২/৩১৬/৩১৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪৫)।
মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামেন পূর্বধলা থানা পুলিশ। গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির নিবিড় বিশ্লেষণে পুলিশের হাতে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই তথ্যের ভিত্তিতেই মূল অভিযুক্ত সাজনকে গ্রেপ্তার এবং ভিকটিমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে পুরো ঘটনা।
পুলিশ জানায়, ভিকটিমের মা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় সাত মাস আগে সকালে দিকে ভিকটিমকে একা পেয়ে জোরপূর্বক প্রথমবার ধর্ষণ করে সাজন মিয়া। এরপর ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে টানা কয়েক মাস ধরে কিশোরীকে ধর্ষণ করতে থাকে। ফলে ১২ বছরের ওই শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। ভিকটিম বয়সে ছোট এবং স্বাস্থ্য অনেক খারাপ থাকায় শারীরিকভাবে তার গর্ভাবস্থার বিষয়টি বাবা-মা কেউই টের পাননি।
গত ২৮ জুন সকালে ভিকটিম পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে তার মা তাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাইয়ে কর্মস্থলে চলে যান। কিন্তু দিনভর ব্যথা বাড়তে থাকে এবং রাতে ঘনঘন প্রস্রাবের হলে রাত আনুমানিক ১টার দিকে বসতঘরের প্রস্রাবখানার পাশেই ভিকটিমের গর্ভপাত হয় এবং একটি মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করে।
ভিকটিম বিষয়টি তার মাকে জানালে তিনি প্রস্রাবখানার পাশে মৃত নবজাতকটিকে দেখতে পান। এ সময় ভিকটিম সাজন মিয়ার ধর্ষণের বিষয়টি মায়ের কাছে খুলে বলে রাতেই ভিকটিমের মা সাজন মিয়াকে ডেকে আনেন। সাজন ধর্ষণের কথা স্বীকার করে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে মা ও মেয়েকে চরম ভয়ভীতি দেখায়। এরপর নিজের একটি কালো রঙের শার্ট দিয়ে নবজাতকের মরদেহটি পেঁচিয়ে এবং রশি দিয়ে একটি ইট বেঁধে ভোরে কালিহর নদীতে ফেলে দেয় সাজন ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা।
এব্যাপারে পূর্বধলা থানার ওসি আবুল আল মামুন জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাজন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে। মরদেহ গুমের মামলার পাশাপাশি ১২ বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক একটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।