মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডহুরি-তালতলা খালের সরকারি জমি এবং স্থানীয়দের ব্যবহৃত একটি খেলার মাঠ দখলের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, খালের জমিতে জেগে ওঠা চর ও দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত খেলার মাঠের চারপাশে মাটি কেটে উঁচু আইল নির্মাণ করা হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, জায়গাটি দখল করে সেখানে ইট-বালুর ব্যবসা পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি, বাসিন্দা ও যুবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহরি এলাকার পাশ ঘেঁষে এবং গাঁওদিয়া ইউনিয়নের শামুরবাড়ি গ্রামের পাখিদিয়া মৌজার অন্তর্ভুক্ত এ জমির ইতিহাস প্রায় ছয় দশকের।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের পর খালের গতিপথ সোজা করতে পাখিদিয়া মৌজার পূর্বাংশ থেকে জমি অধিগ্রহণ করে মাঝখান দিয়ে খাল খনন করা হয়। পরে প্রায় ২৫ বছর আগে তীব্র নদীভাঙনের কারণে খালের পশ্চিম তীর ভেঙে গেলে খালের গতিপথ পরিবর্তিত হয়। আরএস নকশা অনুযায়ী পূর্ব পাশে বিস্তীর্ণ চর জেগে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে ওই চরের একাংশে ওয়ার্কশপ, কারখানা ও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। অবশিষ্ট খোলা জায়গাটি গত প্রায় ১৫ বছর ধরে স্থানীয় যুবসমাজ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্থানীয় টুর্নামেন্ট ও সামাজিক আয়োজনও এ মাঠকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
স্থানীয় তরুণদের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি শফিকুল আজাদ ওরফে সেনা বেপারীর লোকজন মাঠের চারপাশে মাটি কেটে আইল নির্মাণ শুরু করেন। তাদের দাবি, ইট ও বালুর ব্যবসার জন্য মাঠ ও সরকারি খালের জমি ঘিরে রাখার উদ্দেশ্যেই এ কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি জানার পর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরদিনই আবার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে পুনরায় মাটি কাটার কাজ শুরু হয়। এতে সরকারি জমি ও এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য আর কোনো মাঠ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠে গ্রামের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করছে। সরকারি খালের জমি দখল করে এখানে বালুর ব্যবসা চালু হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আর কোনো উন্মুক্ত স্থান থাকবে না।’
তারা অবিলম্বে ডহুরি-তালতলা খালের সরকারি জমি দখলের চেষ্টা বন্ধ, খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল আজাদ ওরফে সেনা বেপারী খালের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘জমিটি আমাদের পৈতৃক ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত। আগে এটি খেলার মাঠ হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ইট-বালুর ব্যবসার জন্য তিন বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমানকে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সার্ভেয়ার সংকট রয়েছে। জমির প্রকৃত অবস্থান, মালিকানা এবং কে কোন অংশে রয়েছেন—তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাল ও জনসাধারণের ব্যবহৃত উন্মুক্ত মাঠ সংরক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পত্তি বেদখলের আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের একমাত্র খেলার মাঠটিও হারিয়ে যেতে পারে।