সরকারি টাকায় বিদেশ সফর বন্ধ গাড়ি কেনায় কড়াকড়ি

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে বেশকিছুু নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় যেখানে সরকারিভাবে ব্যয় সংকোচনের নীতি পরিলক্ষিত হয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোয় আর্থিক ব্যয় কমানোর জন্য চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ এবং সুদমুক্ত বিশেষ ঋণসুবিধায় গাড়ি কেনাও স্থগিত করা হয়েছে। ‘সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকার এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকাল বুধবার অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন খাতে সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দের অর্থ খরচ করা যাবে না। তবে ১০ বছরের অধিক পুরনো যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল থাকবে। এ ছাড়া নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে যানবাহন কেনা যাবে।

একটি নতুন শর্ত যুক্ত করে পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তা কাজে ব্যবহারের জন্য মোটরযান বাদে অন্যান্য সব ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনকৃত বা নতুন কেনা জিপ বা কার অবশ্যই ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (এফইভি) হতে হবে।’ এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত বিশেষ ঋণসুবিধাও আপাতত বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া যাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশ থেকে দেওয়া স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নের জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে।

প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রদত্ত মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে। পিএসআই (প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন) বা এফএটি (ফ্যাক্টরি অ্যাক্সেপটেন্স টেস্ট)-এর ক্ষেত্রে কেবল জটিল প্রকৃতির পণ্য এবং যেখানে পিএসআই বাধ্যতামূলক, সেখানে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করা হবে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনাবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকবে। তবে চলমান নির্মাণ কাজ কমপক্ষে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে তা শেষ করা যাবে।

পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে থোক বরাদ্দের কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে সংরক্ষিত বরাদ্দ অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে। উন্নয়ন বাজেটের আওতায় যানবাহন কেনা বন্ধ থাকলেও এই পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলযোগ্য হবে। পরিপত্রে সবক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত