দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রতারক আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী নারীরা। একই সঙ্গে অসহায় নারীর পাশে দাড়িয়ে মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে থাকা এনসিপির ৫ নেতার মুক্তি দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লারবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলার দরবাপুর গ্রামের সুরত আলীর স্ত্রী আকলিমা বেগম।
সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ৩ শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।
ভুক্তভোগী নারীরা অভিযোগ করেন, আব্দুস সামাদ একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে গ্রামের নিরীহ মানুষকে জাল দলিল এর মাধ্যমে হয়রানী ও জালিয়াতির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। প্রতারক আব্দুস সামাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভুয়া মামলায় এনসিপি নেতা আরিফ মুনসহ ৫ জন জেল হাজতে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ও সত্য ঘটনা উন্মোচন করে মিথ্যা মামলা থেকে এনসিপি নেতা আরিফ মুনসহ ৫ জনের মুক্তির দাবি জানান।
ভুক্তভোগী নারী আকলিমা বেগম অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামে আমার দাদা শ্বশুরের নামে ৫০ শতক জায়গা রয়েছে। জায়গাটি আমাদের দখলে না থাকায় কাগজপত্র এবং দলিল করে দিবে বলে আব্দুস সামাদ জানায়। সেটেলম্যান্ট অফিসারের সঙ্গে আব্দুস সামাদের সুসম্পর্ক রয়েছে এমন কথা বলে। জমির দলিল করে দিবে এই অজুহাতে সরল বিশ্বাসে আব্দুস সামাদকে পর্যায়ক্রমে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করি। ঐ জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করে আমরা বসবাস করতে শুরু করি। পরে জানতে পারি আব্দুস সামাদ দিনাজপুর সেটেলম্যান্ট অফিসের স্যারকে সীলযুক্ত সিএস নং -৩২১ খতিয়ানের কাগজ দেয়। যাচাই করে দেখা যায় ভুয়া দলিল। ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা আব্দুস সামাদের কাছে ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করে। বিষয়টি উপজেলা যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক আজমির হোসেনকে জানালে টাকা উদ্ধারের জন্য এনসিপি নেতা যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগাঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন ৫ জুলাই শহরের লিলিড়মোড়ে আব্দুস সামাদের কাছে পাওনা টাকা ফেরত চান। একসময় আব্দুস সামাদ তার ছেলে মামুনকে ফোন দেয়। মামুন পুলিশকে খবর দিলে বড়মাঠ থেকে পুলিশ আরিফ মুন, আজমির হোসেন, মো. হাসিন ইশরাকমিমসহ ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। কোতয়ালী থানায় বিশেষ একটি দলের নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টি করে রাজনৈতিক চাপের মুখে আব্দুস সামাদের ছেলে মামুনের দায়েরকৃত মামলায় আরিফ মুনসহ ৫ জনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। আব্দুস সামাদকে অপহরণ বা চাঁদা দাবি করে নাই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সুন্দরপুর ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামের মমতাজ বেগম, মোছাম্মৎ ঋতু, আকলিমা, জবা খাতুন, সুরমা এবং মাহবুমা আকতার রুনী প্রমুখ।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা-পরীক্ষা নিয়ে নির্দেশনা জারি