ব্যবসা ছেড়ে তরমুজ চাষ, হলুদ তরমুজে বাজিমাত

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

বর্ষাকালে বাজারে তরমুজের দেখা মেলা সাধারণত বিরল। অথচ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের পোদ্দারের চর গ্রামের একটি ক্ষেতে এখন সারি সারি ঝুলছে হলুদ রঙের তরমুজ। মৌসুমের বাইরে মালচিং পদ্ধতিতে ‘লিওনা’ ও ‘সূর্য ডিম’ জাতের তরমুজ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন কৃষক মো. অমিত হাসান। প্রথমবারের মতো এই চাষ করেই তিনি আশাব্যঞ্জক ফলন পেয়েছেন। তার এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।

কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ছোট ব্যবসায় আশানুরুপ লাভ পাননি অমিত হাসান। বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে গিয়ে ইউটিউবে বিদেশি কৃষি প্রযুক্তির ভিডিও দেখতে শুরু করেন। সেখান থেকেই মালচিং পদ্ধতিতে অফসিজনে তরমুজ চাষের ধারণা পান। পরে নিজের উদ্যোগে এ বছর ১৬ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লিওনা ও সূর্য ডিম জাতের তরমুজের আবাদ করেন।

বর্ষাকালে জমিতে পানি জমার ঝুঁকি থাকায় প্রথমে উঁচু বেড তৈরি করেন। এরপর বেডে মালচিং ব্যবহার করে বাঁশ ও নেট দিয়ে মাচা নির্মাণ করেন। সেই মাচায় লতা ছড়িয়ে বেড়ে ওঠে তরমুজ গাছ। পরিচর্যার শুরু থেকেই গাছে আসে আশাব্যঞ্জক ফলন। বর্তমানে ক্ষেতজুড়ে ঝুলছে দৃষ্টিনন্দন হলুদ তরমুজ।

দেখতে তুলনামূলক ছোট হলেও প্রতিটি তরমুজের ওজন দুই থেকে তিন কেজির মধ্যে। আকর্ষণীয় রঙের পাশাপাশি স্বাদেও এগুলো বেশ মিষ্টি। বাজারে নতুন ধরনের ফল হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। ফলে মৌসুমের বাইরেও ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক।

কৃষক মো. অমিত হাসান বলেন, বিভিন্ন ব্যবসা করে বারবার লোকসান হয়েছে। এরপর ইউটিউবে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ দেখে আশার আলো দেখতে পাই। প্রথমবার চাষ করেই ভালো ফলন পেয়েছি। ১৬ শতাংশ জমিতে চাষ করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। উৎপাদিত তরমুজ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছি। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এই জাতের তরমুজ চাষ করতে চাই।

অমিত হাসানের তরমুজ চাষের সার্বক্ষনিক সহযোগি আনন্দ বিশ্বাস বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে অফসিজন তরমুজ চাষে খরচ খবই কম হয়। মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে আগাছা হয়না এবং সার ও সেচ কম লাগে। বাজারে তরমুজের চাহিদা থাকায় বেশি দামে বিক্রি হয়। অমিত হাসানের এই সাফল্য ইতোমধ্যে আশপাশের অনেক কৃষকদের আকৃষ্ট করেছে। অনেকেই তার ক্ষেত পরিদর্শন করছেন এবং অফসিজনে তরমুজ চাষের বিষয়ে জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজ আক্তার বলেন, অফসিজনে তরমুজ চাষ এখন গোপালগঞ্জের কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ। মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত হওয়ায় কৃষকরা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভালো দাম পাচ্ছেন। অমিত হাসান ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

তিনি জানান, উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত তার ক্ষেত পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিয়েছে। এই তরমুজ চাষে খরচের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উঁচু জমি ও ঘেরের পাড়ে অফসিজন তরমুজ চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আগ্রহী কৃষকদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

গোপালগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক ড,মো. মামুনুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মৌসুমভিত্তিক প্রচলিত চাষাবাদের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অফসিজন তরমুজ চাষ কৃষকদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মালচিং পদ্ধতিতে মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং গাছের সুস্থ বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ায় উৎপাদনও ভালো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত