রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান এলাকার বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া কলেজ শিক্ষার্থী গৃহবধূ সানজিদা আক্তার মারিয়াকে (১৮) হত্যার দায় স্বীকার করেছে তার স্বামী সাইফুল ইসলাম (২১)। তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত সানজিদা লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্সের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ গোড়ান আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করে। রাতেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় সাইফুলকে।
সানজিদার ভাই মো. চান মিয়া জানান, প্রায় আট মাস আগে কুমিল্লার হোমনা থানার বাসিন্দা ও পেশায় ফুডপান্ডা ডেলিভারি রাইডার সাইফুলের সঙ্গে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা দক্ষিণ গোড়ানের ওই বাসার নিচতলায় তারা ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মারিয়াকে তিনি বারবার ফোন দিচ্ছিলেন। তবে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, এরপর তখন মারিয়ার সাইফুলকে ফোন দেওয়া হয়। সাইফুল তখন বাসায় গিয়ে মারিয়াকে দেখে আসতে বলে। পরবর্তীতে স্বজনরা ওই বাসায় গিয়ে রান্নাঘর সংলগ্ন বারান্দার মেঝেতে মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় একটি কালো দাগ দেখতে পান। পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে খিলগাঁও থানা পুলিশের সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মাঝ রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও বলেন, মারিয়ার বাবার নাম মো. মহসিন। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজা উপজেলায়।
খিলগাও থানার পুলিশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির ৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। সেই সাথে গ্রেপ্তার স্বামী হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
আরও জানানো হয়, সানজিদা আক্তার মারিয়ার গলায় পাটের সুতলি পেচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যা আত্মহত্যা বলে প্রচারণা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই চান মিয়া শনিবার (১১ জুলাই) খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সাইফুলের বাবা-মাকে নিয়ে সাংসারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।