টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে ফসল-ঘের, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, মাছের ঘের, বসতভিটা, খামার, খাল-বিল ও পুকুর। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কয়েক হাজার মানুষ।

একই সঙ্গে উত্তাল নদীর ঢেউ উপকূলীয় বেড়িবাঁধে আঘাত হানায় ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সরেজমিন দেখা গেছে, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার চরমানিকা, চরমাদ্রাজ, আসলামপুর, জাহানপুর, হাজারীগঞ্জ, নীলকমলের বাংলাবাজার, ঘোষেরহাট, নজরুলনগরসহ বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলা ও চর নিজাম এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নিচু এলাকার বসতভিটা, কৃষিজমি, মাছের ঘের, খাল-বিল ও পুকুর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পেরে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে অনেক গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। দিনমজুর, জেলে ও নিম্নআয়ের মানুষ কাজ করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। অনেক এলাকায় রান্নাবান্না করতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এবং ১৭০ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, জলাবদ্ধতায় ২১৮ হেক্টর এলাকার ৩ হাজার ৬৭১টি ছোট-বড় মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ায় খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার বেতুয়া থেকে হাজারীগঞ্জ পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসরত অসহায় ও ছিন্নমূল পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। তিনি দুর্গত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে কর্মক্ষম মানুষ কাজ করতে না পারায় অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে। তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি এবং হলুদ, মরিচ ও জিরার গুঁড়া বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত