নোয়াখালী হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ফেরি মহানন্দা। প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর মাঝ নদী থেকে চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরে আসে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার সঙ্গীদের ফেরিতে তোলার জন্য। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফেরির যাত্রীরা। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টায় চেয়ারম্যান ঘাট ছাড়ে মহানন্দা ফেরি। এর কিছুক্ষণ পর ঢাকা থেকে গাড়িযোগে চেয়ারম্যান ঘাটে পৌঁছান স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। পরে মেঘনা নদীর মাঝপথ থেকে ফেরিটি ঘুরিয়ে আবার চেয়ারম্যান ঘাটে আনা হয়। সেখানে এমপি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরিতে ওঠেন। এরপর ফেরিটি পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির বলেন, ‘ফেরির মাস্টার প্রথমে আমাকে জানান, ফেরি ছাড়বে না। পরে আবার জানান, বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেরি ছাড়বে। কিন্তু ছাড়ার প্রায় ২৩ মিনিট পর ফেরি আবার ফিরে আসে এমপিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। হাতিয়ার ফেরি চলাচলের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে দেখিনি।’
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী বলেন, ‘ঘাট থেকে ছেড়ে আসার অনেকক্ষণ পর হঠাৎ দেখি ফেরি ঘুরে যাচ্ছে। পরে ঘাটে ফিরে দেখি এমপি হান্নান মাসুদ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ফেরিতে উঠছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমন বৈরী আবহাওয়ায় একদিকে আমরা ভয়ের মধ্য দিয়ে নদী পাড়ি দিচ্ছি আর এমপি দেখাল তার ক্ষমতা।’
ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছাড়ার আনুমানিক ১০ মিনিট পর এমপির জন্য ফেরি ঘাটে ফিরে আসে।’ এমন ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফেরি মহানন্দার মাস্টার নুরুল আমীন বলেন, ‘আমি এত কিছু জানি না। ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আমাকে জানান, ঘাটে এমপি এসেছেন। ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে যেতে হবে। পরে আমরা ঘাটে ফিরে এমপিকে নিয়ে নলচিরা ঘাটে যাই।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ভিআইপির জন্য নির্ধারিত গন্তব্যে যাত্রারত ফেরি মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা কতটা যৌক্তিক।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়।