রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে চোরাই ও ছিনতাই করা মোবাইল কেনা-বেচা চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর র্যাব জানিয়েছে চক্রটি এসব মোবাইল বিভিন্ন অপরাধী দলকে দিয়ে সহায়তা করে আসছিল। এতে কোনো ধরনের অপরাধ ঘটার পর এর সঙ্গে জড়িতদের ধরতে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মুন্না শেখ, নাসির উদ্দিন শান্ত ও মো. নাসিম।
গত শনিবার নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-২। তাদের কাছ থেকে ৫টি নতুন মোবাইল, ১২৬টি পুরনো মোবাইল, ১৬৫টি মোবাইলের ডিসপ্লে, ১৬টি পুরনো ট্যাব এবং ৬৫টি মোবাইলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল রবিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে র্যাব ২-এর সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক নিফাজ রহমান। তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজধানীতে মোবাইল চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় চোরাই মোবাইল কেনা-বেচা চক্রের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিফাজ রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে চোর ও ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে চোরাই মোবাইল কিনে কম দামে বিক্রি করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এড়াতে তারা মোবাইল খুলে যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে বিক্রি করত। জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের সদস্যরা মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন কথাও জানিয়েছে।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মাঠপর্যায়ে চোর ও ছিনতাইকারীরা গ্রেপ্তার হলেও চোরাই মোবাইল কেনা-বেচা চক্রের মূল সদস্যরা আড়ালে থেকে যায়। এই চক্রে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। চক্রের সদস্যরা ব্যাচেলর পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে গোপনে চোরাই মোবাইল ও যন্ত্রাংশের ব্যবসা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করা হয়েছে।