ধনী ও করপোরেট কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করছে সরকার। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করপোরেট করদাতাদের জন্য শিগগিরই ই-রিটার্ন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। করদাতাদের তথ্যভা-ার সমৃদ্ধ করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও  সমন্বয়ের কাজ চলছে। কোন খাত থেকে কত কর আসা উচিত, তা নির্ধারণে ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অনলাইনে উৎসে কর কর্তনের পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।

গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপে ২০২৫ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এলেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারের প্রভাবে চলতি বছরের মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জোগান সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাজারভিত্তিক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ : কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার পৃথক পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিত্বে গঠিত বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে ইক্যুইটি সহায়তাও দেওয়া হবে।

সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা : সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন রেজল্যুশন কৌশল, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্রেডিট রিস্ক ব্যবস্থাপনা, জামানত মূল্যায়নের নতুন ব্যবস্থা এবং ঋণ পুনরুদ্ধারে কর্মকর্তাদের জন্য প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ এবং আমানত সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলার বিচার আরও কার্যকর করতে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধন করা হয়েছে।

মুজিববর্ষ উদযাপনে ব্যয় ৯৮৩ কোটি টাকা : সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদী নির্মাণ, সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের ভাস্কর্য নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এ সংক্রান্ত ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণও সংসদে উপস্থাপন করেছেন মন্ত্রী।

ব্যাংক খাতে লুটপাটের তদন্ত চলছে : গাজীপুর-৪ আসনের সদস্য সালাউদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পালিয়েছেন, তাদের বিষয়ে সরকার কোনো আপস করবে না। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং সম্পত্তি ক্রোকের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই : মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। গতকাল জাতীয় সংসদে সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে টেলিটকের উন্নত নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। তবুও বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করছে।

টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, টেলিটক বাজারে না থাকলে বেসরকারি অপারেটরগুলো ইচ্ছামতো সেবার মূল্য বাড়াতে পারে। টেলিটক আমাদের বাজারে রাখতেই হবে। সরকারের কাছে রাখতেই হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত