চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন ‘বাভি’

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

তাইওয়ান ও জাপানে তাণ্ডবের পর চীনের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হেনেছে টাইফুন ‘বাভি’। গতকাল রবিবার চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে টাইফুন বাভি চীনের উপকূলীয় শহর তাইজৌতে প্রথম আঘাত হানে। পরে মধ্যরাতের দিকে এটি ওয়েনঝু শহরে দ্বিতীয়বারের মতো স্থলভাগে প্রবেশ করে। টাইফুনটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও, প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝড়ে হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। চীনের ন্যাশনাল মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী টাইফুন বাভির কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার (৯০ মাইল), যা স্যাফির-সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি-১ হারিকেনের সমতুল্য। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এর গতিপথে থাকা প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ইতিমধ্যে ১৭ লাখেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে আরও ১ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকি থাকার কারণে ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, কার্যালয় ও আউটডোর সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০টির বেশি ফ্লাইট এবং ডজনখানেক ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। ওয়েনঝুর এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ছাদের টালি আর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ফলে আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম।’ চীনের রাজধানী বেইজিং থেকেও প্রায় এক লাখ মানুষকে ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ঝড়টি তাইওয়ান ও জাপানের প্রত্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোতে তাণ্ডব চালায়। এতে গাছপালা উপড়ে যায় এবং কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল ঘেঁষে অতিক্রম করার ফলে সেখানেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়। তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত না হানলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পার্বত্য এলাকাগুলো থেকে ১৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজধানী তাইপের বাইরের তাওয়ুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৯২০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং ২৮২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও বন্ধ রাখা হয়। ফিলিপিন্সে টাইফুন বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। নিহতদের বেশিরভাগই দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের বাসিন্দা।

টাইফুন বাভি প্রথমে ‘সুপার টাইফুন’-এ পরিণত হয়েছিল। গত সোমবার এটি গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সোমবার এটি আনহুই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার শানডং উপদ্বীপ হয়ে উত্তর পীত সাগরের দিকে অগ্রসর হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত