‘হরমুজ’ আবারও ইরানের হাতিয়ার

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। হরমুজ কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আবার সংঘাতে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে, দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকেও স্বাক্ষর করেছিল। তবে নতুন এই সংঘাত সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এমতাবস্থায় ‘হরমুজ’ প্রণালি হয়ে উঠেছে ইরানের কৌশলগত হাতিয়ার। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের অন্যতম প্রধান ‘প্রতিরোধের উপাদান’ এবং এটি দেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। তার মতে, ডজন ডজন পারমাণবিক বোমার চেয়েও হরমুজ প্রণালি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি রেজায়িকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ইরান তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং জাতীয় শক্তির ওপর ভর করে দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা করবে।

পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করেছে। এই অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে ইরান বরাবরই জোর দিয়ে বলেছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতে ইরানের মারণাস্ত্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার শক্ত জবাব দিতে সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্যিক পথকেই দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান। যুদ্ধপূর্ব সময়ে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।

ইরানের ড্রোন উৎপাদন তিনগুণ বেড়েছে : যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলার মুখেও ইরানের ড্রোন উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তেহরান বলছে, চলমান যুদ্ধের সময় ইরানের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিনগুণ বেড়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবন আল-রেজা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ। গত শনিবার আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধ ও রমজান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইবন আল-রেজা। তিনি বলেন, শীর্ষপর্যায়ের কয়েকজন কমান্ডারকে হারানোর পরও যুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত উদ্ভাবনী কৌশল প্রদর্শন করেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি এবং এ সময় ইরানের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আল-রেজা আরও বলেন, শত্রুপক্ষ ১৫০টি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিল। কিন্তু সর্বাধিনায়কের নেতৃত্ব এবং জনগণের সমর্থনের কারণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধকে ইরানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি অনুঘটক হিসেবে উল্লেখ করেন রেজা। তিনি বলেন, শত্রুর দুর্বল দিকগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করাই এ অগ্রগতির অন্যতম কারণ। তিনি আরও বলেন, শহীদদের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ একটি নতুন প্রতিরোধ ফ্রন্টের উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টার, ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছে।

গতকাল রবিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এ সময় কোনো জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত