৬ মাসে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতায় ৫৬ জন নিহত

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) সারা দেশে রাজনৈতিক দলীয় কোন্দল ও নির্বাচনী সহিংসতায় ৫৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪০৪ জন নারী ও শিশু। ছয় মাসে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন ৩৮৩ সাংবাদিক। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ  বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।’

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৮৩০টি সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৫৬ জন নিহত ও ৫ হাজার ২৪৬ জনের বেশি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৩৭ জন, জামায়াতের ছয়, আওয়ামী লীগের তিন এবং অন্যান্য দলের আটজন রয়েছেন। ৮৩০টি সহিংসতার ঘটনার ৬৭৩টিই (৮১%) ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল ও বিএনপির সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে। বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ২৭৩টি ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ২ হাজার ৯২ জন আহত হয়েছেন।

ছয় মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় কমপক্ষে ১৪৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩ হাজার ২৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২৪ হাজার ৫১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ সময়ে রাজনৈতিক মামলায় কমপক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩ হাজার ৬৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী অন্তত ২ হাজার ৪১৫ জন।

এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসে ২০০টি হামলার ঘটনায় ৩৮৩ জন  সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৩৪ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ৬০ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৪৯ জন সাংবাদিক। এ ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর অধীনে ৩৩ জন সাংবাদিককে আসামি করে পৃথক ১৫টি মামলা হয়েছে।   

মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয় গত ছয় মাসে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় সারা দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগ্বিতন্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে ২৬১টি ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। যেখানে, ২০২৫ সালের একই সময়ে ১৪১টি ঘটনায় অন্তত ৬৭ জন নিহত এবং ১১৯ জন আহত হন।

এই সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫০টি হামলার ঘটনায় ৫৬ জন আহত হয়েছেন এবং ১৯টি মন্দির, ১৫টি প্রতিমা ও ৪৩টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয় গত ছয় মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৩২টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় ৯ জন নিহত, ৩৫ জন আহত হয়েছেন, এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৪ জন । এ ছাড়া ৩৮ জনকে বিভিন্ন সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অন্তত ১৭৩ জনকে পুশ ইন করা হয়েছে।

ছয় মাসে বিচার বহির্ভূত হত্যার (হেফাজতে/নির্যাতনে/গুলি/বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যু) ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে কারা হেফাজতে কমপক্ষে ৫৮ আসামি মারা  গেছেন। তাদের মধ্যে ২৬ জন কয়েদি ও ৩২ জন হাজতি। এর মধ্যে ১৫ জন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয় দীর্ঘদিন গুম/ জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ না থাকলেও গত ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের মোংলায় কোস্ট গার্ড পরিচয়ে মিরাজ শেখ (৩২) নামে এক যুবককে দুজন সিভিল পোশাকধারী কোস্ট গার্ড সদস্য কর্তৃক তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত ছয় মাসে ৩৩১টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৭৪ জন নিহত ও ১ হাজার তিনজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে ও দুর্ঘটনায় ২১৬ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন, গত ছয় মাসে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ৪০৪ জন, যাদের মধ্যে ২৩৮ জন (৫৯%) ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, ৮৮ জন (২৭%) নারী ও কন্যাশিশু দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে। এ ছাড়া ৪৭৬ নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭৩ জন শিশু।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ১ হাজার ৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩০৫ জন প্রাণ হারিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত